২০১৯ সাল থেকে বারবার মেট্রো কাজের বিপর্যয়ে ক্ষতব্ৰিক্ষত বউবাজারের বাসিন্দারা অবশেষে কিছুটা আশার আলো দেখতে পাচ্ছেন। কলকাতা মেট্রো রেল কর্পোরেশন লিমিটেড (কেএমআরসিএল) ঘোষণা করেছে, তাদের লক্ষ্য ২০২৭ সালের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত ২৪টি বাড়ি নতুন করে তৈরি করে দেওয়া এবং আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত ১৫টি বাড়ির সংস্কার কাজ শেষ করা।
বউবাজারের বাসিন্দাদের কাছে এই ঘোষণা স্বস্তির হলেও, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর তাদের মধ্যে এক ধরণের অধৈর্য্যও তৈরি হয়েছে। অসীমকুমার বড়াল, বউবাজারের একজন বাসিন্দা, ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, “বাড়ি ফিরে পাব, ফিরে পাব, কবে থেকেই তো শুনছি। কিন্তু বাড়ি ফিরে পাচ্ছি কই। এক কাপড়ে বাড়ি ছাড়তে হয়েছিল। সব কিছু মাটিতে মিশে গেছে। আর বছর বছর শুনে যাচ্ছি বাড়ি ফেরত পাব।”
বিপর্যয়ের চিত্র ও পুনরুদ্ধারের অঙ্গীকার:
২০১৯ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো প্রকল্পের শিয়ালদা থেকে এসপ্ল্যানেড অংশের কাজ চলাকালীন বউবাজারে একাধিকবার বিপর্যয় ঘটে। এর ফলে ২১টি বাড়ি সম্পূর্ণরূপে ভেঙে পড়ে এবং আরও ৩টি বাড়ি মেট্রোর কাজের সুবিধার্থে ভেঙে ফেলা হয়। এছাড়াও, অসংখ্য বাড়ি আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই বিপর্যয়গুলির কারণে বহু পরিবারকে রাতারাতি নিজেদের বাসস্থান ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে হয়।
কেএমআরসিএল জানিয়েছে, তারা এই ২৪টি সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি নতুন করে তৈরি করার কাজ করছে। এর মধ্যে ১৬টি তিনতলা, পাঁচটি চারতলা এবং তিনটি দোতলা বাড়ি রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই বাড়িগুলি ফ্ল্যাট বা আবাসন নয়, পুরোনো নকশাতেই তৈরি করে দেওয়া হবে। এই নতুন ২৪টি বাড়ি তৈরিতে মেট্রোর খরচ হবে প্রায় ২৭ কোটি টাকা। এছাড়াও, আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত ১৫টি বাড়ি সংস্কারের কাজও শুরু হয়েছে, যার জন্য খরচ হচ্ছে ৬ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে মোট ৭৪টি পরিবার তাদের ঠিকানা ফিরে পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
চ্যালেঞ্জ ও আগামী পদক্ষেপ:
যদিও মেট্রো কর্তৃপক্ষ ২০২৭ সালের লক্ষ্যমাত্রা স্থির করেছে, বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের যন্ত্রণা এবং ব্যবসায়িক ক্ষতির বিষয়টি রয়েই যাচ্ছে। সুমন নস্কর নামে এক বাসিন্দা জানান, তার বাড়ি সংস্কার করে দেওয়া হলেও, ব্যবসার যে ক্ষতি হয়েছে, তা কোনোদিনই ফেরত পাওয়া সম্ভব নয়।
কেএমআরসিএল কলকাতা পুরসভার সাথে একাধিকবার বৈঠক করেছে এবং যারা বাড়ি পাবেন, তাদের সাথেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে বলে জানিয়েছে। এই প্রকল্প সফল হলে, বউবাজারের ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের জীবনে কিছুটা হলেও স্বাভাবিকতা ফিরে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হয় কিনা, সেটাই এখন দেখার বিষয়।




