মৃত্যুর ওপারে কী আছে? প্রেমানন্দ মহারাজের এক জাদুকরী ব্যাখ্যায় কেটে যাবে জীবনের সব ভয়!

মৃত্যু—এক অমোঘ সত্য, যা শুনলে বুক কেঁপে ওঠে না এমন মানুষ বিরল। প্রিয়জনদের হারানো, সাজানো স্বপ্নের বিনাশ আর অন্ধকার এক অজানার পথে পা বাড়ানো; এই ভয় মানুষকে সারাজীবন তাড়িয়ে বেড়ায়। কিন্তু মৃত্যু কি সত্যিই জীবনের যবনিকা? নাকি এটি কেবল একটি নতুন অধ্যায়ের শুরু? মৃত্যুর এই গূঢ় রহস্য নিয়ে এক অত্যন্ত সহজ অথচ বৈপ্লবিক ব্যাখ্যা দিয়েছেন বৃন্দাবনের জনপ্রিয় সন্ত শ্রী হিত প্রেমানন্দ মহারাজ।

প্রেমানন্দ মহারাজের মতে, মৃত্যু কোনো সমাপ্তি নয়, বরং এটি একটি ‘রূপান্তর’ মাত্র। তিনি ব্যাখ্যা করেছেন যে, আমাদের এই নশ্বর শরীর পঞ্চভূত (অগ্নি, জল, বায়ু, পৃথিবী এবং আকাশ) দিয়ে তৈরি। মৃত্যুর পর এই উপাদানগুলো প্রকৃতিতে মিশে যায় ঠিকই, কিন্তু যা হারায় না তা হলো ‘আত্মা’। মহারাজের ভাষায়, আত্মার কোনো বিনাশ নেই, এটি অবিনশ্বর। তাই প্রকৃত অর্থে আমাদের জন্মও নেই, মৃত্যুও নেই।

তাহলে মানুষের মনে এই হাড়হিম করা ভয়ের উৎস কোথায়? মহারাজ বলছেন, এই ভয়ের মূলে রয়েছে ‘দেহাত্মবোধ’। আমরা যখন নিজেকে এই রক্ত-মাংসের শরীর বলে মনে করি, তখনই বিনাশের ভয় আমাদের গ্রাস করে। এটি আসলে একটি গভীর মানসিক বিভ্রম। যখন কোনো ব্যক্তি উপলব্ধি করেন যে তিনি এই শরীর নন, বরং শরীর থেকে পৃথক এক চিরন্তন সত্তা, তখনই মৃত্যুর ছায়া তাঁর জীবন থেকে দূরে সরতে শুরু করে।

মহারাজ স্পষ্ট করেছেন যে, পুরনো পোশাক ত্যাগ করে যেমন নতুন পোশাক পরা হয়, দেহত্যাগ করা ঠিক তেমনই। এটি স্রেফ একটি পোশাক বদলানোর প্রক্রিয়া। এই মায়া বা বিভ্রমটি বুঝতে পারলেই জীবন ও মৃত্যুর প্রতি মানুষের চিরাচরিত দৃষ্টিভঙ্গি বদলে যায়। তিনি এই ভয় জয়ের এক সহজ পথও বাতলে দিয়েছেন। তাঁর মতে, অবিরত ঈশ্বর স্মরণ এবং ভক্তির মাধ্যমেই মানুষ তাঁর প্রকৃত স্বরূপ চিনতে পারে। আর একবার আত্মজ্ঞান লাভ হলে, মৃত্যুকে ভয় নয়, বরং পরমাত্মার সঙ্গে মিলনের এক উৎসব বলে মনে হবে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy