সাধারণ অসুখ, চেনা উপসর্গ— অথচ কাজ করছে না পরিচিত অ্যান্টিবায়োটিক। চিকিৎসকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলে দিয়ে দেশে উত্তরোত্তর বাড়ছে ‘অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স’। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবার বড়সড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর মেডিক্যাল রিসার্চ (ICMR)। যথেচ্ছ অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের প্রবণতা রুখতে দেশজুড়ে নতুন গাইডলাইন আনতে চলেছে কেন্দ্র।
কেন এই উদ্বেগ?
শনিবার বেলেঘাটার ‘নিরবি’ (পূর্বতন নাইসেড)-তে ওআরএস–এর জনক চিকিৎসক দিলীপ মহলানবিশের আবক্ষ মূর্তি উন্মোচন অনুষ্ঠানে এসে এই উদ্বেগের কথা জানান কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যসচিব তথা ICMR-এর মহানির্দেশক রাজীব বহেল। তিনি বলেন:
“বহু ক্ষেত্রে রোগ নির্ণয়ের আগেই অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। এই অতি-ব্যবহার ও অপব্যবহারের ফলে জীবাণুরা ওষুধের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলছে। ফলে ভবিষ্যতে সাধারণ সংক্রমণ নিরাময় করাও কঠিন হয়ে দাঁড়াবে।”
আসন্ন গাইডলাইনে কী থাকছে?
ICMR সূত্রে খবর, প্রস্তাবিত নির্দেশিকাটি হবে সম্পূর্ণ প্রমাণভিত্তিক। সেখানে মূলত তিনটি বিষয়ের ওপর জোর দেওয়া হবে:
-
সুনির্দিষ্ট ব্যবহার: সংক্রমণের ধরন অনুযায়ী ঠিক কোন অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করতে হবে, তার স্পষ্ট উল্লেখ থাকবে।
-
পরীক্ষা ভিত্তিক চিকিৎসা: কোন পরিস্থিতিতে প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষার পর ওষুধ পরিবর্তন করতে হবে, তা জানানো হবে।
-
সময়সীমা: কতদিন পর্যন্ত অ্যান্টিবায়োটিক চালানো প্রয়োজন, তার একটি সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন চিকিৎসকদের মানতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের মত
চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতে, সাধারণ সর্দি-কাশিতেও দেদার অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার ফলে জীবাণুগুলি এখন অনেক বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসকরা ‘প্ল্যান-বি’ বা আরও শক্তিশালী অ্যান্টিবায়োটিক দিতে বাধ্য হচ্ছেন, যা রোগীর শরীরের জন্য দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি ডেকে আনতে পারে। নতুন গাইডলাইন কার্যকর হলে এই ‘এম্পিরিক্যাল’ বা আন্দাজে ওষুধ দেওয়ার প্রবণতা কমবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য কার্যকর চিকিৎসা পদ্ধতি সুরক্ষিত থাকবে।
অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স কী?
যখন কোনো ব্যাকটেরিয়া বা জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়তে লড়তে তারা ওই নির্দিষ্ট ওষুধের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে ফেলে, তাকেই বলা হয় অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স। এর ফলে সাধারণ ইনফেকশনও প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে।