মুখ্যমন্ত্রীর সাম্প্রতিক একটি টুইটকে কেন্দ্র করে শিলিগুড়ির রাজপথে তীব্র প্রতিবাদ জানাল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। বুধবার দুপুরে শহরের বুকে এক বিরাট মিছিলের আয়োজন করে বিজেপি, যেখানে শাসকদলের বিরুদ্ধে স্লোগান তুলেছেন দলের নেতা-কর্মীরা। এই প্রতিবাদ মিছিলে বিশেষভাবে নজর কেড়েছে মহিলা কর্মীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ।
নারীশক্তির উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি
বিজেপির এই প্রতিবাদ মিছিলে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মহিলা কর্মী ও সমর্থক অংশ নিয়েছিলেন। তাঁরা প্ল্যাকার্ড হাতে এবং স্লোগানে স্লোগানে মুখ্যমন্ত্রীর টুইটের প্রতিবাদ জানান। নারীশক্তির এই সক্রিয় উপস্থিতি মিছিলকে এক ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে এবং শাসকদলের প্রতি বিজেপির কঠোর অবস্থানের বার্তা বহন করেছে। দলের মহিলা নেত্রীরা এই মিছিলে নেতৃত্ব দেন এবং বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরেন।
শঙ্কর ঘোষের নেতৃত্বে প্রতিবাদ
বিজেপির স্থানীয় নেতা শঙ্কর ঘোষ এই প্রতিবাদ মিছিলের অগ্রভাগে ছিলেন। তাঁর নেতৃত্বে মিছিলটি শিলিগুড়ির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পথ প্রদক্ষিণ করে। মিছিলে হাঁটতে হাঁটতে শঙ্কর ঘোষ মুখ্যমন্ত্রীর টুইটের তীব্র সমালোচনা করেন এবং এটিকে রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে বেমানান বলে অভিহিত করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে শাসকদল বিভিন্ন জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নীরব থেকে অপ্রয়োজনীয় বিষয়ে বিভাজনমূলক মন্তব্য করছে।
শঙ্কর ঘোষ সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, “মুখ্যমন্ত্রীর সাম্প্রতিক টুইট রাজ্যবাসীর ভাবাবেগে আঘাত হেনেছে। যেখানে রাজ্যের মানুষ নানা সমস্যায় জর্জরিত, সেখানে এই ধরনের মন্তব্য অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।” তিনি আরও বলেন, “বিজেপি রাজ্যের মানুষের পাশে আছে এবং এই ধরনের অসংবেদনশীল মন্তব্যের বিরুদ্ধে আমরা ভবিষ্যতেও প্রতিবাদ জারি রাখব।”
রাজনৈতিক চাপানউতোর
মুখ্যমন্ত্রীর টুইট ঘিরে বিজেপির এই প্রতিবাদ শিলিগুড়ি তথা রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চাপানউতোর সৃষ্টি করেছে। বিজেপি এই ইস্যুকে জনসমক্ষে এনে শাসকদলের বিরুদ্ধে জনমত গঠনের চেষ্টা করছে বলে মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে, শাসকদল এই বিষয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, আগামী দিনে এই টুইট বিতর্ককে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে।
এই বিক্ষোভ রাজ্যের আসন্ন স্থানীয় নির্বাচন বা অন্যান্য রাজনৈতিক সমীকরণের ওপর কতটা প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।





