“মুখে খেলা হবে, আসলে স্লোগানের খেলা!” মেসি-কাণ্ড টেনে মালদা থেকে মমতাকে চরম হুঁশিয়ারি নীতিন নবীনের

ভোটের মুখে এবার রাজ্যের ক্লাব ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলিকে কেন্দ্র করে তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণে শানাল বিজেপি। বৃহস্পতিবার পুরাতন মালদার সাহাপুরে আয়োজিত এক বৈঠকে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন অভিযোগ করেন, বাংলায় খেলাধুলার উন্নতি নয়, বরং ক্লাবের অনুদান নিয়ে চলছে চূড়ান্ত রাজনীতি ও তোলাবাজি।

মেসি-কাণ্ড ও ‘ভুয়া’ খেলা: সম্প্রতি যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ফুটবল মহাতারকা লিওনেল মেসিকে নিয়ে যে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল, তাকেই হাতিয়ার করেছেন নীতিন নবীন। তাঁর কটাক্ষ:

“বাংলার ফুটবল ইতিহাস স্বর্ণাক্ষরে লেখা। কিন্তু কিছুদিন আগে বিশ্বখ্যাত ফুটবলারকে আনা হলো, মানুষ ভিড় করলেন, আর সেখানে কী হলো? শুধু স্লোগানের খেলা হলো, আসল খেলা হলো না! তৃণমূল শুধু মুখেই বলে খেলা হবে, আসল খেলা হয় না।”

ক্লাবের অনুদান ও অভিষেকের ছবি: রাজ্যের ক্লাবগুলিকে দেওয়া সরকারি অনুদান নিয়েও বিস্ফোরক দাবি করেছেন বিজেপি সভাপতি। তাঁর অভিযোগ:

  • ক্লাবগুলিকে পুজোর জন্য যে টাকা দেওয়া হচ্ছে, তা মাত্র দু-তিনজনের অ্যাকাউন্টে থাকছে, উৎসবের কাজে লাগছে না।

  • অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, পুজো প্যান্ডেলে ‘দিদির’ (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) ছবি না থাকলে কোনও টাকা মিলবে না।

  • এই ক্লাবগুলিই নির্বাচনের সময় তৃণমূলের হয়ে তোলাবাজি চালাচ্ছে।

১০ বছরের গ্যারান্টি ও অলিম্পিক স্বপ্ন: ক্রীড়াক্ষেত্রে বাংলাকে ফেরানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে নবীন বলেন, ২০৩০-এর কমনওয়েলথ গেমস এবং ২০৩৬-এর অলিম্পিক ভারতে আয়োজিত হবে। বিজেপিকে সুযোগ দিলে এই ১০ বছরে বাংলার খেলোয়াড়রা পদক নিশ্চিত করবেন। তিনি অভিযোগ করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলি রাজ্যে চালু করতে দেননি, যার ফলে খেলোয়াড়রা অবসরকালীন ভাতা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

শিল্পায়ন ও অনুপ্রবেশ ইস্যু: ক্রীড়া জগতের পাশাপাশি অনুপ্রবেশ এবং শিল্পায়ন নিয়েও শাসকদলকে আক্রমণ করেন তিনি। তাঁর দাবি, ‘মহাজঙ্গলরাজ’-এর কারণে বড় বড় কোম্পানি বাংলা ছেড়ে পালাচ্ছে, যার ফলে বাড়ছে বেকারত্ব। এই পরিস্থিতির অবসান ঘটিয়ে ‘বিকাশমুখী’ বাংলা গড়ার ডাক দিয়েছেন তিনি।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy