মুকুল নেই, তবুও কৃষ্ণনগর উত্তরে ‘চাণক্য’ আতঙ্ক! ভোটের লড়াইয়ে অদৃশ্য থেকেও গেম-চেঞ্জার রায়সাহেব?

কৃষ্ণনগর উত্তর বিধানসভা কেন্দ্র— বাংলার রাজনীতির মানচিত্রে এই নামটির সাথে জড়িয়ে আছে ‘চাণক্য’ মুকুল রায়ের নাম। এবারের ভোটের ময়দানে তিনি সশরীরে নেই, নেই কোনো জনসভা বা মিছিলে। কিন্তু অদ্ভুত বিষয় হলো, উত্তর কৃষ্ণনগরের অলিগলি থেকে শুরু করে চায়ের দোকান, সর্বত্রই আলোচনার কেন্দ্রে সেই ‘অনুপস্থিত’ রায়সাহেব। প্রতিদ্বন্দ্বী তিনজন হলেও, রাজনৈতিক মহলের মতে, লড়াইটা আসলে হচ্ছে মুকুল রায়ের ছায়ার সঙ্গেই।

অদৃশ্য থেকেও কীভাবে নিয়ন্ত্রক মুকুল? একসময় তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড, তারপর বিজেপির সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি— মুকুল রায়ের হাত ধরেই এই কেন্দ্রে রাজনৈতিক সমীকরণ বারবার বদলেছে। গত নির্বাচনে বিজেপি থেকে জিতে বিধায়ক হয়েছিলেন, তারপর ফের তৃণমূলে ফেরা। এখন অসুস্থতা আর সক্রিয় রাজনীতি থেকে দূরে থাকলেও, তার তৈরি করা ভোট-মেশিনারি এবং অনুগামীরা এখনও নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করছে।

তৃণমূল বনাম বিজেপি: মাঝখানে ‘রায়সাহেব’ ফ্যাক্টর তৃণমূল চাইছে মুকুল রায়ের পুরনো ঘর গুছিয়ে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে। অন্যদিকে, বিজেপি মরিয়া প্রমাণ করতে যে ব্যক্তি মুকুল নয়, বরং মোদী হাওয়াতেই গতবার পদ্ম ফুটেছিল। কিন্তু স্থানীয় ভোটারদের একাংশ মনে করেন, কৃষ্ণনগর উত্তরের রাজনৈতিক ডিএনএ-তে মুকুল রায়ের কৌশল এতটাই গেঁথে আছে যে, তাকে বাদ দিয়ে কোনো অঙ্কই মেলা সম্ভব নয়।

ত্রিমুখী লড়াইয়ে অদ্ভুত ছায়াযুদ্ধ: ময়দানে ঘাসফুল, পদ্ম এবং বাম-কংগ্রেস জোটের প্রার্থী থাকলেও প্রতিটি শিবিরের রণকৌশলে একটাই প্রশ্ন— “মুকুল অনুগামীদের ভোট কোন দিকে যাবে?”

  • তৃণমূলের দাবি, ‘চাণক্য’ এখন তাদের দলেই।

  • বিজেপির পালটা দাবি, ভোটাররা বেইমানি সহ্য করবেন না।

উপসংহার: ভোটের ব্যালট পেপারে মুকুল রায়ের নাম নেই, নেই কোনো পোস্টার। তবুও কৃষ্ণনগর উত্তরের প্রতিটি রাজনৈতিক মোড়ে যেন অদৃশ্য এক উপস্থিতি জানান দিচ্ছে। প্রার্থীরা একে অপরের বিরুদ্ধে প্রচার করলেও, দিনশেষে তাদের লড়াই করতে হচ্ছে সেই পুরনো ‘চাণক্য’ রাজনীতির সমীকরণের বিরুদ্ধে। রায়সাহেবকে কেন্দ্র করে এই ‘ছায়াযুদ্ধ’ই এখন কৃষ্ণনগরের সবথেকে বড় আকর্ষণ।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy