উত্তরপ্রদেশের মীরাটে অবস্থিত লালা লাজপত রায় মেমোরিয়াল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা ব্যবস্থার চরম গাফিলতির এক ভয়ঙ্কর চিত্র সামনে এসেছে। পথ দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত এক ব্যক্তি যখন হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছিলেন এবং তাঁর শরীর থেকে গলগল করে রক্ত বেরোচ্ছিল, তখন কর্তব্যরত এক চিকিৎসককে নির্দ্বিধায় টেবিলের উপর পা তুলে শুয়ে ঘুমোতে দেখা গেছে। গোটা ঘটনাটি সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে এবং ভিডিওটি ভাইরাল হতেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নড়েচড়ে বসেছে।
মৃত ব্যক্তির নাম সুনীল। গত সোমবার সন্ধ্যায় একটি পথ দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত অবস্থায় পুলিশ তাঁকে মীরাটের এই সরকারি হাসপাতালে নিয়ে আসে। জরুরি বিভাগে তাঁকে ভর্তি করা হলেও, পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘক্ষণ ধরে সুনীল রক্তাক্ত অবস্থায় স্ট্রেচারে শুয়ে যন্ত্রণায় ছটফট করছিলেন। পরিবারের দাবি, কোনো চিকিৎসক তাঁর খোঁজ নেননি, চিকিৎসা তো দূরের কথা।
टेबल पर पैर फेंक डॉक्टर साहब सो रहे हैं, उधर मरीज तड़प तड़प मर गया. ये असंवेदनशीलता की पराकाष्ठा नहीं तो क्या है ?
यह इंसान डॉक्टरों के नाम पर कलंक है, घटना मेरठ के LLRM मेडिकल कॉलेज की है, जहां हादसे में घायल सुनील तड़प तड़प कर मर गया और डॉक्टर सोते रहे pic.twitter.com/kqcZMHy3Ab
— Priya singh (@priyarajputlive) July 28, 2025
ভাইরাল হওয়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, দুজন জুনিয়র ডাক্তার, ভূপেশ কুমার রাই এবং অনিকেত, দায়িত্বে থাকা সত্ত্বেও অঘোরে ঘুমোচ্ছিলেন। একটি ফ্রেমে দেখা যায়, এক মহিলা কোলে বাচ্চা এবং হাতে প্রেসক্রিপশন নিয়ে বারবার একজন ডাক্তারকে জাগানোর চেষ্টা করছেন, কিন্তু তাঁর ঘুম ভাঙছে না। অন্যদিকে, সুনীল তখনও রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালের বিছানায় পড়ে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন।
ঘটনার সময় ডিউটির ইন-চার্জ চিকিৎসক ডঃ শশাঙ্ক জিন্দল হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন না। তদন্তে তিনি দাবি করেন, “আমি যখন পরিবার ও রোগীর শারীরিক অবস্থার কথা জানতে পারি, সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যাই এবং জরুরি চিকিৎসা শুরু করি, IV ফ্লুইড ও কাস্ট দেওয়া হয়।” তবে তিনি স্বীকার করেছেন, “যদিও ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছিল।”
পরদিন সকাল ৭টা নাগাদ সুনীলের মৃত্যু হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট অভিযোগ করা হয়েছে যে, চিকিৎসায় গাফিলতির কারণেই সুনীলের মৃত্যু হয়েছে। যদিও ডঃ জিন্দল জানিয়েছেন, রোগীকে হাসপাতালে আনার সময়ই তাঁর অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক ছিল।
ঘটনা জানাজানি হতেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে। কলেজের প্রিন্সিপাল ডঃ আর সি গুপ্ত বলেন, “ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, এক জুনিয়র ডাক্তার রোগীর আর্তি সত্ত্বেও ঘুমিয়ে রয়েছেন। দু’জন ডাক্তারকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে।” জেলা শাসককেও বিষয়টি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারি হাসপাতালের এই চরম গাফিলতি ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজ্যজুড়ে তীব্র নিন্দার ঝড় উঠেছে এবং দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার মানবিকতা নিয়ে সাধারণ মানুষ প্রশ্ন তুলছেন।