রাজ্য রাজনীতিতে কুন্তল ঘোষ এবং মিঠুন চক্রবর্তীর (Mithun Chakraborty) মধ্যে বাক্যবিনিময় এখন চরমে পৌঁছেছে, যা আসন্ন ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। দুর্গাপুরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জনসভা থেকে এই বাগযুদ্ধের সূত্রপাত হয়, যখন তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ মিঠুনের পোশাক নিয়ে কটাক্ষ করেন। এরপর থেকেই এই কথার লড়াই কেবল ব্যক্তিগত আক্রমণেই সীমাবদ্ধ না থেকে রাজনৈতিক তরজায় পরিণত হয়েছে।
কুণালের প্রাথমিক কটাক্ষের পর মিঠুন চক্রবর্তী একটি সাংবাদিক সম্মেলনে পালটা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “মার খেয়ে বাড়ি ফিরবেন না। পারলে মেরে আসবেন।” মিঠুনের এই মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে কুণাল ঘোষ বলেন যে, মিঠুন চক্রবর্তী রাজনৈতিক পরিভাষা বোঝেন না এবং তিনি কেবল “গুন্ডামি” করছেন। কুণালের পরামর্শ, রাজনীতি করতে হলে মুখের ভাষা ঠিক করা উচিত। এই ঘটনার অব্যবহিত পরেই মহানায়ক উত্তম কুমারের প্রয়াণ দিবসে মিঠুন চক্রবর্তী তাঁকে শ্রদ্ধা না জানানোয় কুণাল আবারও সরব হন।
তবে, এই বাকযুদ্ধের নতুন মোড় আসে যখন দাদা সাহেব ফালকে পুরস্কার প্রাপ্ত ‘ডিস্কো ডান্সার’ মিঠুন চক্রবর্তী কুণাল ঘোষকে “পচা নর্দমা” বলে কটাক্ষ করেন। এর প্রতিক্রিয়ায় কুণাল ঘোষ তার এক্স হ্যান্ডেলে মিঠুন চক্রবর্তীকে “জলঢোঁড়া” বলে তির্যক মন্তব্য করেন। উল্লেখযোগ্য, একসময় রাজনৈতিক মঞ্চে একটি সিনেমার সংলাপ বলতে গিয়ে মিঠুন নিজেকে ‘জাত গোখরো’ বলে উল্লেখ করেছিলেন। কুণালের ‘জলঢোঁড়া’ মন্তব্য যে সেই ‘জাত গোখরো’র পাল্টা জবাব, তা বুঝতে অসুবিধা হয় না।
কুণাল ঘোষ তার এক্স হ্যান্ডেলের পোস্টে অভিনেতা ও সাংসদ দীপক অধিকারী, যিনি ‘দেব’ নামেই অধিক পরিচিত, তাঁর প্রসঙ্গ টেনেছেন। কুণাল লিখেছেন, “আমাদের দল এবং ব্যক্তিদের সম্পর্কে কুৎসা করলেও দেব মিঠুনের সঙ্গে সিনেমাতে অভিনয় করে। তার সঙ্গে ছবি দেয়।” এই মন্তব্যের মাধ্যমে কুণাল যে দেবকেও এই বিতর্কে টেনে এনেছেন, তা বলাই বাহুল্য।
তবে, সমালোচকদের মতে, দেব বা মিঠুন চক্রবর্তী উভয়েই পেশাদার অভিনেতা। তাঁদের পেশাগত কারণে একসঙ্গে অভিনয় করা বা ছবি তোলা রাজনীতির ঊর্ধ্বে। প্রসঙ্গত, দেব নিজেও বহুবার প্রকাশ্যে রাজনীতি ছেড়ে দেওয়ার কথা বলেছেন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, দেব বহুবার স্পষ্ট করেছেন যে তাঁর এবং মিঠুনের পেশাগত সম্পর্কের মধ্যে রাজনীতি নিয়ে কোনো আলোচনা বা গুঞ্জন নেই।
কুণাল ঘোষ অবশ্য এখানেই থেমে থাকেননি। তিনি কটাক্ষ করে বলেছেন, “দেব মিষ্টি, আমি দুষ্টু তাই আমার নাম শুনেই জলঢোঁড়া তেলে বেগুনে জ্বলে উঠেছেন।” সব মিলিয়ে, আসন্ন নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক মঞ্চে এই ‘তু তু ম্যায় ম্যায়’ জমে উঠেছে। তবে, শেষ হাসি কে হাসবে – মিঠুন চক্রবর্তী নাকি কুণাল ঘোষ – তা নির্ধারণ করবে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মানুষের রায়।