পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা ও যুদ্ধের দাবানলের মধ্যেই বড়সড় পদক্ষেপ নিল ভারত। বদলে যাচ্ছে দেশের চিরাচরিত প্রতিরক্ষা কৌশল। সূত্রের খবর, বিশ্বজুড়ে চলমান অস্থিরতার কথা মাথায় রেখে ভারতীয় প্রতিরক্ষা পরিকল্পনাবিদরা এখন ড্রোন শক্তি বৃদ্ধি এবং পারমাণবিক আক্রমণকারী সাবমেরিন মোতায়েনের ওপর সবথেকে বেশি জোর দিচ্ছেন।
কেন এই কৌশল পরিবর্তন? ভারতের মোট বাণিজ্যের প্রায় ৯০ শতাংশ সম্পন্ন হয় সমুদ্রপথে। এছাড়া দেশের প্রয়োজনীয় অশোধিত তেলের ৮০ শতাংশই আসে সমুদ্র দিয়ে। তাই হরমুজ প্রণালী, বাব-এল-মান্দেব এবং মালাক্কা প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ পথগুলি সুরক্ষিত রাখা ভারতের অর্থনীতির জন্য এখন ‘বাঁচামরা’র লড়াই হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রতিরক্ষা ছকের মূল স্তম্ভসমূহ: ১. আন্দামান কমান্ডের শক্তিবৃদ্ধি: মালাক্কা প্রণালীর ওপর কড়া নজর রাখতে আন্দামানের ত্রি-বাহিনী কমান্ডকে আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে। এই পথ দিয়েই বিশ্বের ৪০ শতাংশ সামুদ্রিক বাণিজ্য পরিচালিত হয়। ২. বিদেশে নয়া ঘাঁটি: মরিশাসের আগালেগা দ্বীপে দীর্ঘ রানওয়ে ও জেটি নির্মাণ করে ভারত মহাসাগরের ওপর নজরদারি শুরু করেছে ভারত। পাশাপাশি ওমানের দুকম বন্দর ব্যবহারের অধিকার ভারতের জন্য এক যুগান্তকারী কৌশলগত জয়। ৩. রাডার নেটওয়ার্কের জাল: সেশেলস, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ ও মরিশাসে উপকূলীয় রাডার নেটওয়ার্ক স্থাপন করা হয়েছে। এই নেটওয়ার্ক গুরুগ্রামের ইনফরমেশন ফিউশন সেন্টারের (IFC-IOR) সাথে যুক্ত, যা শত্রু সাবমেরিনের সামান্যতম নড়াচড়াও নিমেষে শনাক্ত করতে পারবে।
ড্রোন ও সাবমেরিন ফোকাস: আধুনিক যুদ্ধ যে ড্রোন এবং সাবমেরিন ছাড়া জেতা অসম্ভব, তা ইউক্রেন ও পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত থেকে শিক্ষা নিয়েছে ভারত। তাই নৌবাহিনীকে আরও আধুনিক ড্রোন এবং পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন দিয়ে সজ্জিত করার প্রক্রিয়া দ্রুততর করা হয়েছে।
ভারতের এই নতুন ‘প্রতিরক্ষামূলক আক্রমণাত্মক’ অবস্থান বিশ্বমঞ্চে নয়াদিল্লির সামরিক দাপটকে আরও বাড়িয়ে তুলল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।





