২০২৬ সালের জানুয়ারি মাস থেকে বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ (DA) বৃদ্ধির অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন লক্ষ লক্ষ কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগী। সাধারণত মার্চের মধ্যেই এই ঘোষণা হয়ে যাওয়ার কথা থাকলেও, ক্যালেন্ডারের পাতা এপ্রিলে পা রাখায় কর্মীদের মধ্যে দানা বাঁধছে উদ্বেগ। তবে কি এবার ডিএ বৃদ্ধিতে বড় কোনো বাধা রয়েছে? বিশেষজ্ঞরা কিন্তু বলছেন অন্য কথা।
দেরি কি আদৌ হচ্ছে? কার্মা ম্যানেজমেন্ট গ্লোবাল কনসাল্টিং সলিউশনস-এর এমডি প্রতীক বৈদ্যর মতে, এই সময়সীমা মূলত তথ্য বিশ্লেষণ এবং অনুমোদনের ওপর নির্ভরশীল। তিনি ব্যাখ্যা করেছেন, “জানুয়ারির ডিএ ঘোষণা সাধারণত মার্চের শেষ দিকে অনুমোদন পায়, যখন মুদ্রাস্ফীতির চূড়ান্ত তথ্য হাতে আসে। তাই বর্তমানে যেটুকু সময় লাগছে, তাকে বিচ্যুতি না বলে প্রক্রিয়ার অংশ বলাই ভালো।”
গণনার ফর্মুলা ও আইনি ধাপ ডিএ সংশোধনের প্রক্রিয়াটি একটি নির্দিষ্ট সূত্রের ওপর দাঁড়িয়ে:
এটি শিল্প শ্রমিকদের ভোক্তা মূল্য সূচকের (CPI-IW) ১২ মাসের গড়ের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয়।
তথ্য প্রস্তুত হওয়ার পর ফাইলটি আর্থিক যাচাই এবং সবশেষে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার অনুমোদনের জন্য যায়।
ব্যাঙ্কবাজারের সিইও আধিল শেঠি জানিয়েছেন, “এপ্রিলে ঘোষণা হওয়া মানেই যে নীতিগত কোনো পরিবর্তন হয়েছে, তা নয়। প্রক্রিয়াটি তার স্বাভাবিক ছন্দেই রয়েছে।”
বকেয়া বা অ্যারিয়ার কি মিলবে? সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, ঘোষণা দেরিতে হলে কি জানুয়ারি থেকে মার্চ মাসের টাকা কাটা যাবে? উত্তর হলো—না। আধিল শেঠি স্পষ্ট করেছেন:
“বিজ্ঞপ্তি যখনই জারি হোক না কেন, এই বৃদ্ধি ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাস থেকেই কার্যকর করা হবে। অর্থাৎ, কর্মীরা তাদের বর্ধিত বেতনের সঙ্গে গত কয়েকমাসের সম্পূর্ণ বকেয়া বা অ্যারিয়ার একসঙ্গে পাবেন।”
উপসংহার: আপাতত যা পরিস্থিতি, তাতে মনে হচ্ছে অপেক্ষাটি শুধুমাত্র প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার কারণে। এপ্রিলের প্রথম ভাগেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সবুজ সংকেত মিলতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। ফলে পকেটে বাড়তি টাকা আসা এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা।





