২০২৬ সালের শুরুতেই ভারতীয় অটোমোবাইল বাজারে খুশির জোয়ার। গত জানুয়ারি মাসে ভারতীয় বাজারে রেকর্ড ৪.৫০ লক্ষ ইউনিটের গাড়ি বিক্রি হয়েছে, যা এই মাসের জন্য সর্বকালের সর্বোচ্চ। তবে সবচেয়ে বড় চমক দেখিয়েছে দেশীয় সংস্থা টাটা মোটরস। জনপ্রিয়তার শিখরে পৌঁছে মারুতি সুজুকির দাপট কমিয়ে শীর্ষস্থান দখল করে নিয়েছে ‘টাটা নেক্সন’। পেট্রোল, ডিজেল এবং ইলেকট্রিক—তিনটি ভার্সনেই নেক্সনের চাহিদা এখন আকাশছোঁয়া।
মারুতি বনাম টাটা: লড়াই এখন তুঙ্গে সামগ্রিক বিক্রির দিক থেকে মারুতি সুজুকি ১,৭৮,৩০০ ইউনিট বিক্রি করে বাজারে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখলেও, একক মডেল হিসেবে টাটা নেক্সন সবাইকে টেক্কা দিয়েছে। জানুয়ারিতে ২৩,৩৬৫ ইউনিট নেক্সন বিক্রি হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ৫২ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে, মারুতির সেডান গাড়ি ‘ডিজায়ার’ ১৯,৬২৯ ইউনিট বিক্রি করে দ্বিতীয় স্থান ধরে রেখেছে। টাটার আরেক খুদে এসইউভি ‘পাঞ্চ’ ১৯,২৫৭ ইউনিট নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে, যা প্রমাণ করে ভারতীয় ক্রেতারা এখন ছোট হ্যাচব্যাকের চেয়ে এসইউভি-র দিকেই বেশি ঝুঁকছেন।
শীর্ষ ১০ তালিকার চিত্র: ১. টাটা নেক্সন: ২৩,৩৬৫ ইউনিট ২. মারুতি ডিজায়ার: ১৯,৬২৯ ইউনিট ৩. টাটা পাঞ্চ: ১৯,২৫৭ ইউনিট ৪. হুন্ডাই ক্রেটা: ১৭,৯২১ ইউনিট ৫. মারুতি এরটিগা: ১৭,৮৯২ ইউনিট ৬. মারুতি সুইফট: ১৭,৮০৬ ইউনিট ৭. মারুতি ব্রেজা: ১৭,৪৮৬ ইউনিট ৮. মারুতি ব্যালেনো: ১৬,৭৮২ ইউনিট ৯. মহিন্দ্রা স্করপিও: ১৫,৫৪২ ইউনিট ১০. মারুতি ভিক্টোরিস: ১৫,২৪০ ইউনিট
নতুনদের দাপট ও ক্রেতাদের পছন্দ: এই তালিকায় দশম স্থানে থাকা মারুতি সুজুকির নতুন লঞ্চ হওয়া ‘ভিক্টোরিস’ এসইউভিটি নজর কেড়েছে। এটি মাত্র ৫ মাসেই ৫০ হাজার বিক্রির গণ্ডি পার করেছে। অন্যদিকে, হুন্ডাই ক্রেটা কিছুটা পিছিয়ে চতুর্থ স্থানে নেমে গেলেও এসইউভি প্রেমীদের কাছে এর আবেদন এখনও অম্লান। মহিন্দ্রার স্করপিও তার দাপট বজায় রেখে নবম স্থানে রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সেফটি রেটিং এবং আধুনিক প্রযুক্তির কারণে টাটা ও মহিন্দ্রার মতো দেশীয় ব্র্যান্ডগুলোর প্রতি মানুষের ভরসা দিন দিন বাড়ছে।





