‘পুলিশ দিবস’-এর দিনেই এক দারুণ মানবিকতার উদাহরণ তৈরি করলেন হাওড়া ব্রিজ ট্রাফিক গার্ডের ওসি সৌভিক চক্রবর্তী। তার দ্রুত এবং সঠিক পদক্ষেপের ফলে এক অসুস্থ বৃদ্ধার জীবন বাঁচানো সম্ভব হয়েছে।
কী ঘটেছিল?
আজ সকাল প্রায় ১১টা ৪০ মিনিটে এম.জি. রোডে ডিউটি করছিলেন ওসি সৌভিক চক্রবর্তী। তখনই তিনি জানতে পারেন, ১৬৮ নম্বর রুটের একটি বাসে দীপিকা আচার্য নামে ৭০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। বৃদ্ধা প্রায় অচৈতন্য অবস্থায় ছিলেন এবং তার শরীরের একদিক অবশ হয়ে গিয়েছিল। তিনি কথা বলতেও পারছিলেন না।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝতে পেরে ওসি দেরি না করে বৃদ্ধাকে দ্রুত বাস থেকে নামিয়ে একটি ট্যাক্সিতে করে কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যাতে সব রকম সাহায্য পাওয়া যায়, তার জন্য একজন সার্জেন্ট এবং একজন মহিলা হোমগার্ডকেও বৃদ্ধার সঙ্গে পাঠানো হয়।
‘গ্রিন করিডর’ তৈরি করে দ্রুত হাসপাতালে:
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়ার জন্য স্ট্র্যান্ড রোড থেকে মেডিকেল কলেজ পর্যন্ত একটি ‘গ্রিন করিডর’ তৈরি করা হয়েছিল। এর ফলে কোনো যানজট ছাড়াই দ্রুত গতিতে ট্যাক্সিটি হাসপাতালে পৌঁছাতে পারে। কর্তৃপক্ষকেও আগে থেকে খবর দেওয়া হয়েছিল, যাতে তারা চিকিৎসার জন্য প্রস্তুত থাকতে পারেন।
হাসপাতালে পৌঁছানোর পর ডাক্তারদের তত্ত্বাবধানে ওই বৃদ্ধাকে সিপিআর-৩ ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তার অবস্থা স্থিতিশীল এবং তিনি ডাক্তারদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। রোগীর আত্মীয় এবং ডাক্তাররা সবাই পুলিশের এই দ্রুত পদক্ষেপের প্রশংসা করেছেন। তাদের মতে, ওসি সৌভিক চক্রবর্তী ও তার দলের তৎপরতার কারণেই বৃদ্ধার জীবন রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে। এই ঘটনা আরও একবার প্রমাণ করল যে পুলিশ শুধু আইনের রক্ষক নয়, প্রয়োজনে তারা মানুষের জীবন রক্ষাকারী বন্ধুও।