রাজ্যের শিক্ষাক্ষেত্রে বড়সড় পরিবর্তনের আঁচ। দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনের পর রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বিজেপি সরকার। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই এবার রাজ্যের সমস্ত মাদ্রাসার ওপর একটি বিস্তারিত সমীক্ষা চালানোর নির্দেশ দিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার।
কী কী তথ্য সংগ্রহ করা হবে? সংখ্যালঘু বিষয়ক এবং মাদ্রাসা শিক্ষা দপ্তরের পক্ষ থেকে গত ৫ জুন একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। সেখানে রাজ্যের প্রতিটি জেলাশাসককে আগামী ৫ জুলাইয়ের মধ্যে স্ব-স্ব জেলার মাদ্রাসাগুলির খুঁটিনাটি রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, এই সমীক্ষার মূল বিষয়গুলো হলো:
বৈধতা: মাদ্রাসার রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত যাবতীয় বৈধ নথিপত্র এবং প্রতিষ্ঠার বছর যাচাই করা।
পরিকাঠামো: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি কি আবাসিক, না কি সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত, অথবা পুরোপুরি বেসরকারি—তার স্পষ্ট বিভাজন।
শিক্ষক ও শিক্ষার্থী: প্রতিষ্ঠানে মোট পড়ুয়া এবং শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীর সঠিক সংখ্যা।
পাঠ্যক্রম: বর্তমানে ওই প্রতিষ্ঠানগুলিতে ঠিক কী ধরনের সিলেবাস পড়ানো হচ্ছে।
প্রশাসনের বক্তব্য: নবান্নের এক পদস্থ আধিকারিক জানিয়েছেন, এই পদক্ষেপ সম্পূর্ণভাবে প্রশাসনিক। সরকারের লক্ষ্য হলো রাজ্যের মাদ্রাসা শিক্ষার বর্তমান অবস্থার একটি সঠিক চিত্র তুলে ধরা, যাতে ভবিষ্যতের কল্যাণমূলক প্রকল্প এবং পরিকাঠামো উন্নয়নের সিদ্ধান্তগুলো নির্ভুল তথ্যের ভিত্তিতে নেওয়া যায়। তবে কোনো ধরনের অনিয়ম বা বেআইনি কার্যকলাপ সামনে এলে সরকার যে কঠোর ব্যবস্থা নেবে, সেই ইঙ্গিতও মিলেছে।
উল্লেখ্য, নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই রাজ্যের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি মাদ্রাসাগুলিতেও সকালের প্রার্থনায় ‘বন্দে মাতরম’ গানটি গাওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবে বর্তমান পাঠ্যক্রম বা পঠনপাঠনের কাঠামো পরিবর্তনের আপাতত কোনো পরিকল্পনা নেই বলে প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে।
এই সমীক্ষাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের শিক্ষা মহলে শুরু হয়েছে ব্যাপক চর্চা। শিক্ষা দপ্তরের আধিকারিকদের মতে, সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে মাদ্রাসা শিক্ষার মানোন্নয়নই এই প্রক্রিয়ার প্রধান উদ্দেশ্য।





