মাতলার চরে বৃদ্ধাশ্রমের আড়ালে বিলাসবহুল রিসর্ট! ক্যানিংয়ের তৃণমূল বিধায়কের বিরুদ্ধে বেআইনি নির্মাণের অভিযোগ

বৃদ্ধাশ্রমের নামে মাতলা নদীর চর দখল করে বিলাসবহুল রিসর্ট বা ‘প্রমোদ ভবন’ তৈরির অভিযোগ উঠল ক্যানিং পশ্চিমের তৃণমূল বিধায়ক পরেশ রাম দাসের বিরুদ্ধে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় স্তরে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে এবার তৎপর হয়েছে প্রশাসন, বিধায়কের ওই ‘সেবাশ্রমে’ পাঠানো হয়েছে শুনানির নোটিস।

ঠিক কী অভিযোগ? স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে ক্যানিংয়ের মাতলা নদীর চরের একাংশ দখল করে ওই বৃদ্ধাশ্রমটি তৈরি করেছিলেন বিধায়ক পরেশ রাম দাস। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, ওই বৃদ্ধাশ্রমের আড়ালে সেখানে গড়ে তোলা হয়েছে এক বিলাসবহুল রিসর্ট। স্থানীয়দের দাবি, জনহিতকর কাজের নাম করে নদীর চর ও সরকারি জমি দখল করে এই বাণিজ্যিক নির্মাণ করা হয়েছে। এই বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই বিরোধী দলগুলো বিধায়কের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়ে সরব হয়েছে।

প্রশাসনের পদক্ষেপ: অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে প্রশাসন ইতিমধ্যে নড়েচড়ে বসেছে। নিয়মবহির্ভূতভাবে নদীর চর দখল এবং পরিবেশ বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে ওই বৃদ্ধাশ্রমের মালিক অর্থাৎ বিধায়ক পরেশ রাম দাসের ঠিকানায় সরকারি নোটিস পাঠানো হয়েছে বলে খবর। সূত্রের খবর, ওই স্থানে কী ধরণের নির্মাণকাজ হয়েছে এবং তার জন্য উপযুক্ত অনুমতি ছিল কি না, সেই বিষয়ে বিধায়ককে জবাবদিহি করতে বলা হয়েছে।

বিধায়কের প্রতিক্রিয়া: এই বিষয়ে বিধায়ক পরেশ রাম দাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অবশ্য দাবি করেছেন যে, এটি একটি সমাজসেবামূলক প্রতিষ্ঠান। বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের আশ্রয়ের উদ্দেশ্যেই এটি তৈরি করা হয়েছে এবং এতে কোনো বেআইনি কাজের প্রশ্নই ওঠে না। তিনি পুরো বিষয়টিকেই রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

চাঞ্চল্য: রাজনৈতিক মহলের মতে, সরকারি জমি ও নদীর চর দখল নিয়ে এই ধরনের অভিযোগ শাসকদলের ভাবমূর্তিকে আরও সংকটে ফেলতে পারে। প্রশাসন এখন এই জমি সংক্রান্ত নথিপত্র এবং পরিবেশগত ছাড়পত্র খুঁটিয়ে খতিয়ে দেখছে। বিধায়কের ওই বৃদ্ধাশ্রমের ভবিষ্যৎ এখন আইনি শুনানির দিকেই তাকিয়ে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy