ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে যেন এক প্রবল ভূমিকম্প অনুভূত হল। মাত্র সাত দিনের ব্যবধানে আম আদমি পার্টির (আপ) ভিত নাড়িয়ে দিল এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক নাটক। অরবিন্দ কেজরিওয়ালের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত সাতজন রাজ্যসভা সাংসদ দলত্যাগ করায় কার্যত দিশেহারা ঝাড়ু শিবির। এই গণ-দলত্যাগের জেরে সংসদের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় আপের শক্তি যেমন তলানিতে ঠেকল, তেমনই কৌশলী চালে নিজেদের পাল্লা ভারী করে নিল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়। বরং অত্যন্ত সুপরিকল্পিত এবং সূক্ষ্ম এক ‘পলিটিক্যাল অপারেশন’। সূত্রের খবর, গত কয়েক মাস ধরেই দলের অভ্যন্তরীণ রণকৌশল এবং নেতৃত্বের একাধিপত্য নিয়ে ক্ষোভ দানা বাঁধছিল এই সাত সাংসদের মনে। সেই ক্ষোভের বারুদেই অগ্নিসংযোগ করল প্রতিপক্ষ শিবির। বারবার গোপন বৈঠক এবং কৌশলী প্রস্তাবের মাধ্যমেই তৈরি হয়েছিল এই বিদ্রোহের প্রেক্ষাপট।
এই পুরো ঘটনাকে এখন দিল্লির অলিন্দে ‘সেভেন মিসড কলস’ নামে অভিহিত করা হচ্ছে। কেন এই অদ্ভুত নাম? দাবি করা হচ্ছে, দল ছাড়ার আগে ওই বিদ্রোহী সাংসদগণ বারবার শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু রহস্যজনকভাবে সেই ফোন কলগুলোর কোনো উত্তর মেলেনি। নেতৃত্বের এই উদাসীনতা এবং স্পষ্ট দিশার অভাবই তাঁদের বিজেপির দিকে ঠেলে দিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
এই ভাঙন আম আদমি পার্টির জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। একদিকে হরভজন সিংয়ের মতো হাই-প্রোফাইল নেতার দলত্যাগ যেমন গদ্দার তকমা বয়ে আনছে, অন্যদিকে কেজরিওয়ালের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ দলকে আরও কোণঠাসা করে দিচ্ছে। রাজ্যসভায় সংখ্যার এই রদবদল মোদী সরকারকে গুরুত্বপূর্ণ বিল পাসের ক্ষেত্রে এক বিশাল সুবিধাজনক অবস্থানে পৌঁছে দিল। বিরোধীরা যখন ঐক্যবদ্ধ হওয়ার স্বপ্ন দেখছে, তখন আপের এই ভাঙন জাতীয় স্তরে বিরোধী জোটের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল।





