মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনমুখী প্রকল্পগুলির মধ্যে অন্যতম জনপ্রিয় লক্ষ্মীর ভাণ্ডার। এই প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের মহিলাদের হাতে প্রতি মাসে আর্থিক সহায়তা তুলে দেওয়া হয়। এবার রাজ্যের নারী, শিশু ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রী শশী পাঁজা বিধানসভায় এক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানিয়েছেন: লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের আওতায় থাকা মহিলারা নির্দিষ্ট বয়স পার হলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে বার্ধক্য ভাতা বা অন্যান্য সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন।
৬.৮২ লক্ষ উপভোক্তার স্বয়ংক্রিয় রূপান্তর
শুক্রবার বিধানসভায় শশী পাঁজা জানান, ২০২৩ সাল থেকে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এর মাধ্যমে রাজ্যের প্রায় ৬ লক্ষ ৮২ হাজার ৮৯৫ জন উপভোক্তা সরাসরি বার্ধক্য ভাতার অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। এর অর্থ হল, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের জন্য নির্ধারিত ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সসীমা পেরোনোর সঙ্গে সঙ্গেই এই উপভোক্তাদের নাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংশ্লিষ্ট পেনশন প্রকল্পগুলোতে যুক্ত হয়ে যাচ্ছে।
এই বিপুল সংখ্যক উপভোক্তা যেভাবে বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় এসেছেন, তার বিস্তারিত চিত্র:
৬ লক্ষ ৩৪ হাজার ৮৩৭ জন মহিলা বার্ধক্য ভাতার তালিকাভুক্ত হয়েছেন।
তফশিলি বন্ধু প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন ৪১ হাজার ৮৯২ জন।
জয় জোহার প্রকল্পে তালিকাভুক্ত হয়েছেন ৬,১৬৬ জন।
মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, এই সমস্ত উপভোক্তার নাম রাজ্য সরকারের ‘জয় বাংলা’ পোর্টালে ইতিমধ্যেই অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
২.২ কোটি উপভোক্তা, ৬৩ হাজার কোটি টাকার ব্যয়ভার
শশী পাঁজা পরিসংখ্যান দিয়ে জানান, বর্তমানে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের অধীনে থাকা মহিলার সংখ্যা প্রায় ২ কোটি ২০ লক্ষ। এই বিপুল সংখ্যক উপভোক্তাকে অর্থ সহায়তা প্রদানের জন্য ২০২৫ সালের ১০ জুন পর্যন্ত রাজ্যের মোট ৬৩ হাজার ৬১৫ কোটি টাকা খরচ হয়েছে।
প্রসঙ্গত, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের আওতায় রাজ্যের ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সী মহিলারা আর্থিক সহায়তা পান। বর্তমানে তপশিলি জাতি ও উপজাতি সম্প্রদায়ের মহিলারা মাসে ১২০০ টাকা এবং সাধারণ সম্প্রদায়ের (জেনারেল ক্যাটাগরি) মহিলারা মাসে ১০০০ টাকা করে ভাতা পান। প্রতি মাসের শুরুতেই এই টাকা সরাসরি মহিলাদের অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যায়। দিন দিন এই প্রকল্পে নতুন করে আবেদনকারীর সংখ্যা বাড়ছে, যা এর ব্যাপক জনপ্রিয়তা প্রমাণ করে।
এই স্বয়ংক্রিয় রূপান্তর প্রক্রিয়া রাজ্য সরকারের একটি অভিনব উদ্যোগ, যা সাধারণ মানুষের কাছে সরকারি পরিষেবা আরও সহজলভ্য করে তুলেছে এবং সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করেছে। এই উদ্যোগ কি রাজ্যের অন্যান্য সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পেও একই রকম স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা আনতে উৎসাহিত করবে?