শহর কলকাতায় ফের এক নৃশংস খুনের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়াল। এবার ঘটনাস্থল দক্ষিণ কলকাতার গড়িয়া স্টেশন সংলগ্ন একটি অভিজাত আবাসন। রবিবার সকালে নরেন্দ্রপুর থানার অন্তর্গত ওই আবাসনের দ্বিতীয় তলের একটি ফ্ল্যাট থেকে এক মহিলার রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করা হয়। অভিযোগের তির খোদ মৃতার স্বামী, যিনি পেশায় একজন অধ্যাপক। সবথেকে মর্মান্তিক বিষয় হলো, যখন এই নৃশংস ঘটনাটি ঘটে, তখন পাশের ঘরে অঘোরে ঘুমিয়ে ছিল দম্পতির আট বছরের অসুস্থ সন্তান।
কীভাবে প্রকাশ্যে এল ঘটনা? পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মৃতার নাম এনাক্ষী দাস। তাঁর স্বামী সৌমিক দাস পেশায় অধ্যাপক। ওই দম্পতি গত চার বছর ধরে সন্তানকে নিয়ে এই ফ্ল্যাটে থাকতেন। রবিবার সকালে বাড়ির পরিচারিকা রিঙ্কু অধিকারী কাজে এসে বারবার ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে প্রতিবেশীদের খবর দেন। এরপর দরজা খুলে ভেতরে ঢুকে দেখা যায়, এক ঘরে শিশুটি ঘুমিয়ে থাকলেও অন্য ঘরে বিছানায় পড়ে রয়েছে এনাক্ষী দেবীর নিথর দেহ। উধাও স্বামী সৌমিক দাস।
তদন্তে উঠে আসা চাঞ্চল্যকর তথ্য: প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, শনিবার রাতে বা রবিবার ভোরের দিকে শ্বাসরোধ করে অথবা ভারী কোনো বস্তু দিয়ে আঘাত করে খুন করা হয়েছে এনাক্ষী দেবীকে। ঘটনার পর থেকেই সৌমিক দাসের মোবাইল ফোন সুইচ অফ এবং তিনি পলাতক। প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, ওই দম্পতি অত্যন্ত অন্তর্মুখী ছিলেন এবং পাড়ায় বিশেষ কারও সঙ্গে মিশতেন না। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কোনো অশান্তি চলছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশ।
অসুস্থ সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ: আট বছরের শিশুটি এখনও বুঝে উঠতে পারছে না তার মা আর নেই এবং বাবা নিখোঁজ। শিশুটি অসুস্থ থাকায় তাকে আপাতত আত্মীয়দের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে। পুলিশ আবাসনের সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ খতিয়ে দেখছে এবং ঘাতক অধ্যাপককে ধরতে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালাচ্ছে।
এক নজরে ঘটনার মূল পয়েন্ট:
গড়িয়া স্টেশন সংলগ্ন আবাসনে রহস্যজনক মৃত্যু গৃহবধূর।
খুনের প্রধান সন্দেহভাজন পলাতক অধ্যাপক স্বামী।
পাশের ঘরে অসুস্থ ছেলের উপস্থিতিতেই ঘটে এই নৃশংস ঘটনা।





