মর্যাদাপূর্ণ শেষকৃত্য পাবে অবলা প্রাণীরা: হাওড়ায় পশু শ্মশান গড়ার জল্পনায় শিলমোহর!

বহুদিনের দাবি অবশেষে বাস্তবায়নের পথে। বাড়ির প্রিয় পোষ্য বা স্নেহের পথকুকুর—মৃত্যুর পর অবলা প্রাণীদের শেষকৃত্য সম্পন্ন করার জন্য এবার বিশেষ শ্মশান তৈরি করতে চলেছে হাওড়া পুরনিগম। বেলগাছিয়া ট্রেঞ্চিং গ্রাউন্ডে এই প্রস্তাবিত পশু শ্মশান তৈরির জন্য ইতিমধ্যে মাটি পরীক্ষার কাজ শুরু করার প্রক্রিয়া গ্রহণ করেছে পুর কর্তৃপক্ষ।

কেন এই উদ্যোগ? শহর এলাকায় জনবসতি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ফাঁকা জায়গার অভাব প্রকট হয়েছে। ফলে পোষ্য বা পথকুকুর মারা গেলে তাদের সৎকার করা নিয়ে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির শেষ ছিল না। পশুপ্রেমী সংগঠনগুলি দীর্ঘদিন ধরে এই সমস্যার সমাধানের দাবি জানিয়ে আসছিল। পুরনিগম থেকে রাজ্য সরকারের প্রাণিসম্পদ বিকাশ বিভাগ—সর্বত্রই আবেদন জানানো হয়েছিল। শেষপর্যন্ত তারা রাজ্যপালের দ্বারস্থ হয়। রাজভবন থেকে পাওয়া বার্তার পরই হাওড়া পুরনিগম সক্রিয় হয়ে ওঠে।

পুরনিগমের বিজ্ঞপ্তি ও টেন্ডার: হাওড়া পুরনিগমের ‘নোটিশ ইনভাইটিং কোটেশন’ অনুযায়ী, বেলগাছিয়া ট্রেঞ্চিং গ্রাউন্ডে (ওয়ার্ড নং ৮) প্রস্তাবিত শ্মশান নির্মাণের আগে জমির মাটির গুণাগুণ ও ধারণক্ষমতা পরীক্ষা করা হবে।

  • খরচ ও সময়সীমা: এই মাটি পরীক্ষার কাজে প্রায় ৯৯,৮০১ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে এবং কাজ শেষ করার জন্য ১৫ দিনের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

  • প্রক্রিয়া: প্রকল্পে ২৫ মিটার গভীরতায় অন্তত দুটি বোরহোল খনন করে মাটির নমুনা সংগ্রহ করা হবে। এরপর সরকার স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সয়েল ইনভেস্টিগেশন রিপোর্ট জমা দিতে হবে।

  • শেষ তারিখ: কোটেশন জমা দেওয়ার শেষ দিন আগামী ১৫ জুন এবং ১৭ জুন সেই টেন্ডার খোলা হবে।

পশুপ্রেমীদের প্রতিক্রিয়া: পশুপ্রেমীদের মতে, এটি শুধু একটি পরিকাঠামো নির্মাণ নয়, বরং মানুষের সঙ্গে প্রাণীদের আবেগের সম্পর্ককে প্রশাসনিক স্বীকৃতি দেওয়া। বহু পরিবারে পোষ্যকে সন্তানতুল্য ভালোবাসা দেওয়া হয়, তাদের মৃত্যুতে শোকও হয় তেমনই গভীর। শ্মশানটি চালু হলে বৈজ্ঞানিক ও স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে প্রাণীদের শেষকৃত্য সম্ভব হবে, যা পরিবেশ দূষণও রোধ করবে।

প্রশাসনিক এই পদক্ষেপে হাওড়ার পশুপ্রেমী মহলে খুশির হাওয়া। মাটি পরীক্ষার কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হলে খুব দ্রুত প্রকল্পটির নির্মাণ কাজ শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy