২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতেই বাংলার রাজনীতির ‘এপিসেন্টার’ হয়ে উঠেছে দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুর কেন্দ্র। ২০২১ সালে নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরাজয় ছিল এক ঐতিহাসিক ঘটনা। পাঁচ বছর পর আবারও সেই একই ছক কষছে গেরুয়া শিবির। গুঞ্জন উঠছে, ভবানীপুরে খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধেই প্রার্থী হতে পারেন শুভেন্দু অধিকারী।
কেন টলমল করছে মমতার ‘সেফ সিট’? দীর্ঘদিন ধরে ভবানীপুরকে তৃণমূল নেত্রীর ‘নিরাপদ দুর্গ’ বলা হলেও, সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে অন্য কথা। শাসকদলের চিন্তার মূল কারণগুলি হলো:
লোকসভার ফল: ২০২১-এর উপনির্বাচনে মমতা প্রায় ৫৮,০০০ ভোটে জিতলেও, ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে এই লিড একধাক্কায় কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৬,৫০০ ভোটে।
ভোট ব্যাংক ও জনবিন্যাস: এই কেন্দ্রের ৭৬ শতাংশ হিন্দু ভোটার এবং উত্তর ভারতীয় ও ওড়িশা থেকে আসা পরিযায়ী ভোটারদের মধ্যে বিজেপির ক্রমবর্ধমান প্রভাব তৃণমূলের দুশ্চিন্তা বাড়াচ্ছে।
৪০ হাজার নাম বাতিল: ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধনে (SIR) প্রায় ৪০,০০০ ভোটারের নাম বাদ যাওয়া নিয়ে খোদ মুখ্যমন্ত্রী সরব হয়েছেন। তৃণমূলের আশঙ্কা, এর ফলে তাদের নিশ্চিত ভোট ব্যাংকে বড় প্রভাব পড়তে পারে।
মমতা হেরে গেলে কী হবে? যদি নন্দীগ্রামের পুনরাবৃত্তি ভবানীপুরে হয়, তবে তার প্রভাব হবে সুদূরপ্রসারী: ১. নেতৃত্বের সংকট: নিজের গড়ে পরাজয় মানে মমতার ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তায় ধস, যা দলের অন্দরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আধিপত্য নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিতে পারে। ২. নবান্ন দখলের লড়াই: বিভিন্ন জনমত সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে তৃণমূল (১৪০-১৬০) ও বিজেপি (১৩০-১৫০) সমানে সমানে লড়াই করছে। এই অবস্থায় মুখ্যমন্ত্রীর পরাজয় বিজেপিকে সরকার গঠনের চূড়ান্ত নৈতিক সুবিধা দেবে।
অভিষেকের পাল্টা চাল পরাজয়ের সম্ভাবনা রুখতে কোমর বেঁধে নেমেছেন তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি প্রতিটি ওয়ার্ডের ক্যাডারদের নির্দেশ দিয়েছেন, এবার যে কোনও মূল্যে ৬০,০০০-এর বেশি লিড নিশ্চিত করতে হবে। দুর্নীতির অভিযোগ ধুয়ে ফেলে স্বচ্ছ ভাবমূর্তিকে হাতিয়ার করেই ঘর গোছাতে শুরু করেছে ঘাসফুল শিবির।





