বীরভূমের রাজনীতিতে অনুব্রত মণ্ডল মানেই ‘শেষ কথা’— এমনটাই ছিল দস্তুর। কিন্তু সেই সমীকরণ কি এখন অতীত? সিউড়িতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতেই যে দৃশ্য ধরা পড়ল, তা নিয়ে এখন তোলপাড় বঙ্গ রাজনীতি। দলনেত্রীর সামনেই প্রকাশ্য জনসভায় গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের চোরাস্রোত আছড়ে পড়ল মঞ্চে। নেত্রী যখন মেজাজ সামলাতে ব্যস্ত, তখনই বিরক্তি প্রকাশ করে স্টেজ ছেড়ে বেরিয়ে গেলেন খোদ অনুব্রত ওরফে কেষ্ট।
মঞ্চে ঠিক কী ঘটেছিল? সিউড়ি বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায়ের সমর্থনে ইরিগেশন কলোনির মাঠে সভা করছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বীরভূমে অনুব্রত এবং কাজল শেখের সাপে-নেউলে সম্পর্ক কারও অজানা নয়। সূত্রের খবর, এদিনের সভা শুরুর আগেই দুই নেতাকে কড়া বার্তা দেন মমতা। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, অনেক কষ্টে দল গড়া হয়েছে, কোনও গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব বরদাস্ত করা হবে না। কে কোন এলাকা দেখবে, তাও ভাগ করে দেন নেত্রী। কিন্তু দায়িত্ব ভাগাভাগির এই ‘ফার্মুলা’ পছন্দ হয়নি দাপুটে নেতা অনুব্রতর।
কেষ্টর বডি ল্যাঙ্গুয়েজে ‘বিদ্রোহের’ ছায়া: সূত্রের খবর, দলনেত্রীর নির্দেশ শুনেই মঞ্চে ক্ষোভ উগরে দেন কেষ্ট। ভিডিওতে ধরা পড়েছে, তিনি হাত নেড়ে অসন্তোষ প্রকাশ করতে করতে স্টেজ থেকে নেমে যাচ্ছেন। মুখ্যমন্ত্রী যখন মঞ্চে ভাষণ দিচ্ছেন, তখন তাঁর সবথেকে ‘স্নেহধন্য’ নেতার এই আচরণ রীতিমতো অস্বস্তিতে ফেলে দিয়েছে শাসকদলকে।
কাজল শেখের মেজাজ ও বিজেপির কটাক্ষ: এই ঘটনা নিয়ে কাজল শেখের প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে তিনি মেজাজ হারান। তাঁর সাফ কথা, “এটি দলের অভ্যন্তরীণ বিষয়, আপনাদের বলব কেন?” অন্যদিকে, এই সুযোগ হাতছাড়া করেনি বিজেপি শিবির। গেরুয়া শিবিরের দাবি, বীরভূমে তৃণমূল এখন তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ছে।
বীরভূমের জেলা পরিষদের সভাধিপতি কাজল শেখ এবং প্রাক্তন সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলের এই ‘ওপেন সিক্রেট’ দ্বন্দ্ব এখন চূড়ান্ত রূপ নিল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। ভোটের মুখে নেত্রীর ‘কমান্ড’ অমান্য করে কেষ্টর এই বহির্গমন কি বীরভূমের ফল বদলে দেবে? উত্তর দেবে সময়।





