ভোটের ভরাডুবির পর তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে ভাঙন অব্যাহত। রবিবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ভেস্তে যাওয়া এবং সোমবার দুই বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহাকে বহিষ্কারের পর তৃণমূলের অন্দরমহলের সংকট আরও প্রকট হয়ে উঠল। এই আবহে রাজ্যের শাসকদলকে তীব্র কটাক্ষ করলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী।
কী বললেন অধীর চৌধুরী? সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অধীর চৌধুরী বলেন, “ভোটের এক মাসের মধ্যেই দলটা যেন তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ছে। জনপ্রতিনিধিরা এখন বুঝতে পারছেন, দিদির সঙ্গে থাকা মানেই সমূহ বিপদ। তাই ‘মানে মানে’ দল ছেড়ে বেরিয়ে আসতে চাইছেন সবাই।”
তিনি আরও দাবি করেন, তৃণমূলের বিধায়করা এখন নিশ্চিত যে এই দল করে কোনো লাভ নেই। ৮০ জন বিধায়ক নিয়েও বিরোধী দলের সম্মানটুকু তৃণমূল ধরে রাখতে পারবে কি না, তা নিয়ে ঘোর সংশয় প্রকাশ করেন অধীর।
কংগ্রেসের সঙ্গে যোগাযোগ? তৃণমূলের অন্দরের কোন্দল এবং আদি-নব্য দ্বন্দ্বের প্রসঙ্গ টেনে অধীর চৌধুরী দাবি করেন, অনেক নেতাই এখন কংগ্রেসের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। তাঁর কথায়, “তৃণমূল নৈতিক এবং মানসিকভাবে চুরমার হয়ে যাচ্ছে। দলটার বারোটা বাজবে, এটা এখন সময়ের অপেক্ষা।”
প্রসঙ্গত, রবিবার তৃণমূল নেত্রীর ডাকে ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে মাত্র ২০ জনের উপস্থিতি এবং পরবর্তীতে বিধায়ক বহিষ্কারের ঘটনা রাজ্য রাজনীতিতে তৃণমূলের ভবিষ্যৎ নিয়ে এক বড় প্রশ্নচিহ্ন এঁকে দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলত্যাগের হিড়িক যদি এভাবে চলতে থাকে, তবে আগামী দিনে তৃণমূলের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখাই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।





