বাংলার রাজনীতিতে ‘বহিরাগত’ শব্দটা নতুন নয়। গত বিধানসভা নির্বাচনে এই ইস্যুকেই হাতিয়ার করে বাজিমাত করেছিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু ২০২৬-এর মহাযুদ্ধের আগে সেই একই তত্ত্বে যেন পাল্টা ঘি ঢাললেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তবে তাঁর এই ‘সিলমোহর’ দেওয়ার ধরনে লুকিয়ে আছে এক গভীর রাজনৈতিক শ্লেষ।
কী বললেন শমীক ভট্টাচার্য? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখনই কেন্দ্রীয় বিজেপি নেতৃত্বকে ‘বহিরাগত’ বলে আক্রমণ করেন, তখন শমীক ভট্টাচার্য পাল্টা যুক্তিতে বলেন:
“মুখ্যমন্ত্রী যদি মনে করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী বা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এরাজ্যে এলে ‘বহিরাগত’ হন, তবে সেই তত্ত্বে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। কারণ আমরা তো সেই ভারতবর্ষের অংশ যা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হয়তো মানতে চাইছেন না। যদি উন্নয়ন আর সংবিধান রক্ষা করতে বাইরে থেকে আসা ‘বহিরাগত’ হতে হয়, তবে আমরা গর্বিত।”
রাজনৈতিক মহলের ব্যাখ্যা: রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, শমীক ভট্টাচার্য আসলে কৌশলে মমতার এই তত্ত্বকে হাস্যকর হিসেবে প্রমাণ করতে চেয়েছেন। তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে, এক দেশে থেকে ‘বহিরাগত’ কার্ড খেলা আদতে সংকীর্ণতা। শমীকের দাবি, বাংলার মানুষ এখন আর এই তত্ত্বে ভুলবে না।
তৃণমূলের পাল্টা আক্রমণ: শমীকের এই মন্তব্যের পরই সরব হয়েছে শাসক দল। তৃণমূলের দাবি, বিজেপি রাজ্য সভাপতি নিজেই স্বীকার করে নিচ্ছেন যে তাঁরা বাংলার নাড়ি বোঝেন না। বাংলার কৃষ্টি ও সংস্কৃতিকে অপমান করার জন্যই তাঁরা ‘বহিরাগত’দের ওপর নির্ভরশীল।
ডেইলিহান্ট বিশেষ বিশ্লেষণ: ২০২৬-এর নির্বাচনে ইস্যু অনেক—মাছ, ঝালমুড়ি থেকে শুরু করে দুর্নীতি। কিন্তু ‘বাঙালি বনাম বহিরাগত’ আবেগ যে এখনও বড় ফ্যাক্টর, তা শমীক ভট্টাচার্যের এই বিস্ফোরক প্রতিক্রিয়া থেকেই স্পষ্ট। শমীক কি তবে জেনেশুনেই মমতার পাতা ফাঁদে পা দিলেন, নাকি এটি বিজেপির নতুন কোনো ‘কাউন্টার স্ট্র্যাটেজি’? সময় বলবে।





