তৃণমূল কংগ্রেসের পরিষদীয় দলের অন্দরে ফাটল এখন চরম পর্যায়ে। দল থেকে বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা হিসেবে মনোনীত করলেও, বিদ্রোহী শিবিরের একাংশ এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই দলের ‘সর্বেসর্বা’ বা ‘দলনেত্রী’ হিসেবে দেখতে চাইছেন। এই স্ববিরোধিতাই এখন রাজ্যের রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
ঋতব্রতর দাবি: শুক্রবার স্বর্ণকমল সাহার বাসভবন থেকে সাংবাদিক সম্মেলন করে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন, বর্তমানে তাঁর শিবিরে ৬০ জন বিধায়ক রয়েছেন। তাঁর কথায়, “বিধানসভায় যে সংখ্যা আমরা দেখিয়েছি, তা দুই-তৃতীয়াংশের চেয়েও বেশি। আর একটাই কথা বলব—এই সংখ্যা ক্রমশই বাড়বে। অধিবেশন শুরু হলে এই সংখ্যা আরও উপরে যাবে।”
বিদ্রোহী শিবিরে দোটানা: তৃণমূলের বিদ্রোহী বিধায়কদের একাংশ একদিকে ঋতব্রতকে নেতা হিসেবে মেনে নিলেও, তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি আনুগত্য ছাড়তে নারাজ। এই বিষয়টি নিয়ে অস্বস্তিতে পড়েছেন খোদ বিদ্রোহী নেতারাও। তবে ঋতব্রত স্পষ্ট করেছেন যে, তাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দলের ‘পরামর্শদাতা’ হিসেবে পেতে আগ্রহী। যদিও বিদ্রোহীদের একাংশের দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই তাঁদের অপ্রতিদ্বন্দ্বী নেত্রী।
অন্যান্য অভিযোগ ও বিতর্ক:
বিক্ষোভ ও এফআইআর: প্রিয়াঙ্কা টিব্রেওয়ালের নেতৃত্বে স্বর্ণকমল সাহার বাড়ির সামনে বিক্ষোভের ঘটনায় নিউ মার্কেট থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে বিদ্রোহী শিবির। ঋতব্রত এই অরাজক পরিস্থিতির নিন্দা করে এর বিচার চেয়েছেন।
সাংসদদের বিদ্রোহের জল্পনা: বিধানসভার বিধায়কদের পর এবার তৃণমূলের সাংসদদের মধ্যেও ভাঙন ধরার সম্ভাবনা নিয়ে গুঞ্জন তুঙ্গে। তবে ঋতব্রত জানিয়েছেন, গত এক সপ্তাহে তাঁর সঙ্গে তৃণমূলের কোনো সাংসদের সরাসরি যোগাযোগ হয়নি।
সংগঠন ভেঙে দেওয়া: এই বিদ্রোহী কর্মকাণ্ডের প্রেক্ষিতে দল থেকে ঋতব্রত ও সন্দীপন সাহাকে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং তৃণমূলের সমস্ত সাংগঠনিক কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষণ: রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, তৃণমূলের অন্দরে এই বিদ্রোহ শুধু নতুন দলনেতা নির্বাচনের লড়াই নয়, এটি দলের দীর্ঘমেয়াদী অস্তিত্ব সংকটের ইঙ্গিত। একদিকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি অনাস্থা এবং অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি আবেগের টান—এই দুইয়ের মধ্যে পিষ্ট হচ্ছে তৃণমূলের পরিষদীয় দল। আগামী দিনে এই সংখ্যাতত্ত্ব এবং দলবদল রাজ্যের রাজনীতিকে কোন দিকে নিয়ে যায়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।





