৪ মের মহারণের আগে পশ্চিমবঙ্গ এখন কার্যত আগ্নেয়গিরির ওপর দাঁড়িয়ে। ভোট মিটলেও উত্তাপ কমেনি এক চুলও, বরং তা গিয়ে ঠেকেছে স্ট্রংরুমের দরজায়। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ভবানীপুরের স্ট্রংরুমে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আকস্মিক উপস্থিতি এবং শুক্রবার সকালে ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রে কুণাল ঘোষ-শশী পাঁজাদের সিসিটিভি নজরদারি ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে নজিরবিহীন তর্জা।
মধ্যরাতে মমতার ‘অপারেশন পাহারা’: বৃহস্পতিবার রাতে ভবানীপুর কেন্দ্রের ইভিএম যেখানে রাখা হয়েছে, সেই সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলে প্রায় ৪ ঘণ্টা কাটান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, বিভিন্ন জায়গায় ইভিএম কারচুপির খবর পাওয়ায় তিনি নিজে এসে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে বাধ্য হয়েছেন। মমতা বলেন, “প্রথমে কেন্দ্রীয় বাহিনী আমাকে ঢুকতে বাধা দেয়। কিন্তু মানুষের ভোট সুরক্ষিত রাখতে আমি জীবন দিয়ে লড়ে যাব। কোনো কারচুপি বরদাস্ত করা হবে না।”
শুভেন্দুর শিবিরের পাল্টা চাল: মুখ্যমন্ত্রীর এই ‘ব্যক্তিগত নজরদারি’কে ভালো চোখে দেখছে না গেরুয়া শিবির। ভবানীপুরে শুভেন্দু অধিকারীর নির্বাচনী এজেন্ট সুরজনীল দাস ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে পুরো বিষয়টি ক্যামেরাবন্দি করার দাবি করেছেন। তাঁর সাফ কথা, “আমরা জানতে পারি মুখ্যমন্ত্রী নিয়ম ভেঙে স্ট্রংরুমে গিয়েছেন। আমি বাংলার মানুষকে আশ্বস্ত করছি, ভবানীপুরের ইভিএম সম্পূর্ণ নিরাপদ। মুখ্যমন্ত্রী অহেতুক আতঙ্ক ছড়াচ্ছেন।” এমনকি শুভেন্দু অধিকারী নিজেও এই সংক্রান্ত কিছু সিসিটিভি ফুটেজ সামনে এনেছেন বলে খবর।
সকালেও রণক্ষেত্র ক্ষুদিরাম কেন্দ্র: বৃহস্পতিবারের রেশ কাটতে না কাটতেই শুক্রবার সকালে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্র। সেখানে অবস্থান বিক্ষোভে বসেন উত্তর কলকাতার তৃণমূল প্রার্থী কুণাল ঘোষ ও শশী পাঁজা। তাঁদের অভিযোগ, সিসিটিভি ফুটেজে কিছু ‘বাইরের লোক’-কে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখা গিয়েছে। তৃণমূলের দাবি— সিসিটিভির লাইভ ফিড দিতে হবে এবং নিরাপত্তা আরও বাড়াতে হবে। এই নিয়ে বিজেপি ও তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে হাতাহাতি ও স্লোগান-পাল্টা স্লোগানের পরিস্থিতি তৈরি হয়।
কমিশনের কড়া বার্তা: পরিস্থিতি সামাল দিতে আসরে নামেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল। তিনি স্পষ্ট জানান, “ইভিএম ও স্ট্রংরুম সম্পূর্ণ নিরাপদ। এখানে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা বলয় রয়েছে। কোনো সময়ই সিসিটিভি বন্ধ করা হয়নি। নিরাপত্তা আরও নিশ্ছিদ্র করতে কিউআর কোড-ভিত্তিক ফটো আইডি কার্ডও চালু করা হয়েছে।”
ফল ঘোষণার ঠিক আগে শাসকের এই ‘আশঙ্কা’ আর বিরোধীদের ‘আত্মবিশ্বাস’ কি বড় কোনো রাজনৈতিক ঝড়ের ইঙ্গিত? উত্তর মিলবে আগামী ৪ মে।





