লোকসভা নির্বাচনের উত্তপ্ত আবহে এবার সরাসরি কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন কলকাতার মেয়র তথা রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। তাঁর দাবি, গভীর রাতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা তাঁর বাড়ির সামনে এসে তাঁকে বাইরে ডেকে পাঠান এবং কার্যত ‘হুঁশিয়ারি’ দেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তপ্ত হয়ে উঠেছে তিলোত্তমার রাজনৈতিক অলিন্দ।
ঠিক কী ঘটেছিল? ফিরহাদ হাকিমের অভিযোগ অনুযায়ী, গত রাতে যখন তিনি বাড়িতে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন, তখন হঠাৎই একদল কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান তাঁর বাড়ির সামনে এসে জড়ো হন। তাঁকে বাড়ির বাইরে আসার জন্য বলা হয়। মন্ত্রী জানান, তিনি বাইরে বেরোতেই জওয়ানরা অত্যন্ত আক্রমণাত্মক মেজাজে কথা বলতে শুরু করেন এবং তাঁকে বিশেষ কিছু নির্দেশ বা ‘হুঁশিয়ারি’ দেন।
ফিরহাদ হাকিমের বয়ান: এই ঘটনা প্রসঙ্গে ক্ষোভ উগরে দিয়ে ফিরহাদ বলেন:
“গণতন্ত্রে এটা কাম্য নয়। মধ্যরাতে এক মন্ত্রীকে বাড়ির বাইরে ডেকে ভয় দেখানোর চেষ্টা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় বাহিনী সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার জন্য, কিন্তু এখানে তাদের দিয়ে রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করা হচ্ছে।”
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ার ঝড়: তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে। ঘাসফুল শিবিরের দাবি, নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করে বিজেপি কেন্দ্রীয় এজেন্সির পর এবার বাহিনীকে দিয়ে বিরোধী নেতাদের হেনস্থা করছে। অন্যদিকে, বিজেপি নেতৃত্ব এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে জানিয়েছে, বাহিনী রুটিন টহল দিচ্ছিল এবং আইন মেনেই কাজ করছে।
কমিশনের ভূমিকা: ইতিমধ্যেই এই বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে তৃণমূল নেতৃত্ব। ভোটের মুখে হাই-প্রোফাইল এক নেতার বাড়ির সামনে বাহিনীর এই ‘তৎপরতা’ ঘিরে নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে।
ভোটের ময়দানে এই ঘটনা শাসক-বিরোধী চাপানউতোরকে কোন দিকে নিয়ে যায়, এখন সেটাই দেখার।





