রাজ্যে প্রকাশিত হলো ভোটার তালিকার নতুন ‘চূড়ান্ত’ রূপ। তবে ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত এই তালিকা সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র চাঞ্চল্য। স্পেশাল ইন্টারঅ্যাক্টিভ রিভিশন (SIR)-এর পর দেখা যাচ্ছে, যে আসনগুলিতে সবচেয়ে বেশি ভোটারের নাম বাদ পড়েছে, তার সিংহভাগই হিন্দু-অধ্যুষিত এবং বিজেপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত।
শীর্ষ ১০ আসনের তালিকায় বিজেপির ‘গড়’
নির্বাচন কমিশনের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যাচ্ছে, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার নিরিখে প্রথম ১০টি বিধানসভা আসনের মধ্যে ৬টিই এমন এলাকা যেখানে ২০২১ সালে বিজেপি বড় ব্যবধানে জিতেছিল। বিশেষ করে মতুয়া এবং বাংলাদেশি হিন্দু শরণার্থী অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে এই নাম বাদ পড়ার হার সর্বাধিক।
কোথায় কত নাম বাদ পড়ল? (শীর্ষ তালিকা):
-
ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি (জলপাইগুড়ি): ১৬,৪৯১ জন (তালিকার শীর্ষে)
-
বাগদা (উত্তর ২৪ পরগনা): ১৫,৩০৩ জন
-
সোনারপুর উত্তর (দক্ষিণ ২৪ পরগনা): ৯,৩৫৪ জন
-
কল্যাণী (নদিয়া): ৯,০৩৭ জন
-
জগদ্দল: ৮,৭৭৮ জন
-
মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি: ৮,৩৮৩ জন
এছাড়াও শান্তিপুর, বনগাঁ উত্তর, আমডাঙা এবং সোনারপুর দক্ষিণের মতো কেন্দ্রগুলিতেও বড় সংখ্যায় নাম বাদ পড়েছে।
বিজেপির কপালে চিন্তার ভাঁজ
মতুয়া এবং শরণার্থী ভোটব্যাঙ্ক দীর্ঘদিন ধরেই বিজেপির বড় ভরসা। এই বিপুল সংখ্যক নাম বাদ যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই উদ্বিগ্ন গেরুয়া শিবির। দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। বিজেপি নেতাদের দাবি, এই বাদ পড়া ভোটারদের সিংহভাগই তাদের সমর্থক। স্থানীয় নেতৃত্বকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে দ্রুত এই মানুষদের নাম পুনরায় তালিকায় তোলার প্রক্রিয়া শুরু করতে।
রাজনৈতিক চাপানউতোর: কী বলছে তৃণমূল ও বিজেপি?
এই ইস্যুকে হাতিয়ার করে মাঠে নেমেছে তৃণমূলও। দলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “মতুয়া এবং হিন্দু শরণার্থীরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। আমাদের দাবি, কোনো যোগ্য ভোটারের নাম যেন তালিকা থেকে বাদ না যায়।”
অন্যদিকে, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী আশ্বাস দিয়ে জানিয়েছেন, যারা সিএএ-২০১৯ (CAA) এর অধীনে নাগরিকত্বের আবেদন করেছেন, তাদের চিন্তার কারণ নেই। নাগরিকত্ব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেই তাদের নাম পুনরায় ভোটার তালিকায় উঠবে। তবে যারা এখনো আবেদন করেননি, তাদের দ্রুত আবেদন করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া বাংলার রাজনীতিতে এক নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।