মতুয়া সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের দাবি আর প্রতীক্ষার অবসান হতে চলেছে? লোকসভা নির্বাচনের আগে মতুয়াদের গড় ঠাকুরনগর থেকে বড়সড় ‘মাস্টারস্ট্রোক’ দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। পরিষ্কার ভাষায় জানিয়ে দিলেন, প্রত্যেক মতুয়া শরণার্থীকে ভারতীয় নাগরিকত্ব প্রদান করা হবে— আর এটাই ‘মোদির গ্যারান্টি’।
ভোটার তালিকা নিয়ে দুশ্চিন্তা দূর সম্প্রতি এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ার জেরে বহু মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। এই নিয়ে সীমান্ত এলাকায় ক্ষোভ ও আশঙ্কার মেঘ দানা বাঁধছিল। সেই প্রসঙ্গ টেনেই এদিন প্রধানমন্ত্রী মোদি আশ্বাস দেন, ভোটার তালিকায় নাম না থাকলেও নাগরিকত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো বাধা থাকবে না। তাঁর দাবি, নাগরিকত্ব আইন (CAA) কার্যকর করে শরণার্থীদের সম্মান জানানো বিজেপির অগ্রাধিকার।
বিরোধীদের তোপ ও মোদির প্রতিশ্রুতি মতুয়াদের নাগরিকত্ব ইস্যুতে বারবার তৃণমূলসহ বিরোধী দলগুলো বিজেপিকে আক্রমণ করেছে। এদিন ঠাকুরনগরের সভা থেকে সেই সমালোচনার কড়া জবাব দেন মোদি। তিনি বলেন:
“মতুয়া ভাই-বোনদের ওপর বছরের পর বছর ধরে অন্যায় করা হয়েছে। কিন্তু এবার সেই দিন শেষ। আমি গ্যারান্টি দিচ্ছি, প্রতিটি শরণার্থী পরিবারকে ভারতের মূল স্রোতে ফেরানো হবে। কারোর হুমকিতে কাজ হবে না।”
রাজনৈতিক সমীকরণ রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মতুয়া ভোটব্যাঙ্ক পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত জেলাগুলোতে অত্যন্ত নির্ণায়ক। ঠাকুরনগর থেকে প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণা কেবল ধর্মীয় আবেগ নয়, বরং সরাসরি নাগরিকত্বের আইনি অধিকার সুনিশ্চিত করার বার্তা। ভোটার তালিকায় নাম না ওঠা শরণার্থীদের সংখ্যা নেহাৎ কম নয়, তাই মোদির এই ‘অভয়বাণী’ বনগাঁ থেকে রানাঘাট— সর্বত্রই বিজেপির পালে হাওয়া দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এখন দেখার, মোদির এই ‘গ্যারান্টি’র পর সিএএ প্রয়োগের প্রক্রিয়া ঠিক কতটা দ্রুত সম্পন্ন করে কেন্দ্র।





