বিধানসভা নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা বাকি। কিন্তু তার আগেই কোচবিহারের রাজনৈতিক পারদ চড়ল এক চাঞ্চল্যকর মন্তব্যে। শনিবার গভীর রাতে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে এক বিস্ফোরক পোস্ট করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় সাংসদ, যা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে বিতর্কের ঝড় উঠেছে।
সাংসদ তাঁর পোস্টে সরাসরি বিজেপিকে আক্রমণ করে লেখেন, “২০২১ সালে বিজেপির কাউন্টিং এজেন্টরা গেঞ্জি খুলে পালিয়েছিল, এবার তাদের প্যান্ট খুলে পালাতে হবে!” গণনার ঠিক আগের রাতে একজন জনপ্রতিনিধির এমন ‘চরম’ হুঁশিয়ারি ঘিরেই শুরু হয়েছে প্রবল চর্চা।
কী ঘটেছিল সোশাল মিডিয়ায়? শনিবার রাত তখন গভীর। যখন গোটা রাজ্য গণনার উত্তেজনায় ফুটছে, ঠিক তখনই সাংসদের প্রোফাইল থেকে এই বিতর্কিত মন্তব্যটি করা হয়। পোস্টে তিনি স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, গণনাকেন্দ্রের ভেতরে এবং বাইরে তৃণমূল কর্মীরা এতটাই সক্রিয় থাকবে যে বিজেপি এজেন্টরা পালানোর পথ পাবে না। ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে এনে তিনি এবারের পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে বলে দাবি করেছেন।
বিজেপির প্রতিক্রিয়া ও বিতর্ক সাংসদের এই কুরুচিকর ও উস্কানিমূলক মন্তব্যের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব। গেরুয়া শিবিরের দাবি, হার নিশ্চিত জেনেই তৃণমূল এখন সন্ত্রাসের পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছে। একজন সাংসদ হয়ে কীভাবে এমন কুরুচিকর শব্দ ব্যবহার করতে পারেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিরোধী দলগুলো। নির্বাচন কমিশনেও এই নিয়ে অভিযোগ জানানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
উত্তপ্ত কোচবিহার এমনিতেই কোচবিহার জেলা রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর। তার ওপর গণনার কয়েক ঘণ্টা আগে শাসক শিবিরের এমন রণংদেহি মেজাজ জেলা প্রশাসনের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন উঠছে, তবে কি গণনাকেন্দ্রের পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে চলেছে?
৪ মে সকালে ইভিএম খোলার পর জনতা কার প্যান্ট খুলে নেয় আর কার জয়জয়কার হয়, তা দেখার অপেক্ষায় এখন পুরো বাংলা। তবে ফলাফলের আগেই সাংসদের এই ‘হুঁশিয়ারি’ যে বিতর্কের আগুনে ঘি ঢালল, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।





