“ভোট কি পিছিয়ে যাবে?”-SIR মামলার শুনানিতে নয়া মোড় সুপ্রিম কোর্টে, চাপে কমিশন!

রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোট শুরু হতে বাকি আর মাত্র তিন সপ্তাহ। প্রস্তুতি যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই পশ্চিমবঙ্গের আকাশে ঘনীভূত হচ্ছে আইনি ও সাংবিধানিক সংকটের মেঘ। ইস্যু সেই বিতর্কিত সাপ্লিমেন্টারি ভোটার লিস্ট বা SIR। আজ, সোমবার সুপ্রিম কোর্টে এই মামলার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শুনানি। আজই বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের সংশোধিত ভোটার তালিকা জমা দেওয়ার কথা। কিন্তু ২৩ ও ২৯ এপ্রিলের ভোটের আগে এই জট কাটবে কি? উত্তর খুঁজছে গোটা রাজ্য।

ভোটের আগেই কি সাংবিধানিক সংকট?

গত ২০ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্ট সংবিধানের ১৪২ নম্বর অনুচ্ছেদ প্রয়োগ করে রাজ্য সরকার ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে আস্থার অভাব দূর করতে হস্তক্ষেপ করেছিল। আদালত নির্দেশ দিয়েছিল ৫৩০ জন বিচার বিভাগীয় আধিকারিককে নিয়ে একটি দল গঠন করতে, যা পরে বাড়িয়ে ৭০০ করা হয়। এমনকি ওড়িশা ও ঝাড়খণ্ড থেকেও ২০০ জন আধিকারিককে আনা হয়েছে। কিন্তু কাজ কি শেষ হয়েছে?

পরিসংখ্যান বলছে ভয়ের কথা:

  • SIR-এর ফাইনাল লিস্টে প্রায় ৫৮ লক্ষ নাম বাদ পড়েছিল।

  • পুনরায় যুক্ত হতে পারে প্রায় ৩৩ লক্ষ নাম।

  • বাকি ২৭ লক্ষ মানুষের নাম এখনও ঝুলে রয়েছে ট্রাইব্যুনালের রায়ের অপেক্ষায়।

মুখ্যমন্ত্রীর তোপ ও রাষ্ট্রপতি শাসনের আশঙ্কা

পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি তোপ দেগেছেন বিজেপির বিরুদ্ধে। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র চলছে এবং রাজ্যে ইতিমধ্যেই ‘অঘোষিত রাষ্ট্রপতি শাসন’ জারি হয়েছে। মালদায় ৭ জন বিচার বিভাগীয় আধিকারিককে ৯ ঘণ্টা ঘেরাও করে রাখার ঘটনা এই উত্তেজনাকে আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

সাবেক নির্বাচন কমিশনারের ‘মাস্টারস্ট্রোক’ পরামর্শ

প্রাক্তন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এস.ওয়াই. কুরেশি এই জট কাটাতে একটি সহজ পথের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তাঁর মতে:

“১৯৫০ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইন অনুযায়ী, যদি নতুন তালিকা নিয়ে বিতর্ক থাকে, তবে ২০২৫ সালের বৈধ ভোটার তালিকাই কার্যকর রাখা উচিত। অথবা যাঁদের আবেদন বিচারাধীন, তাঁদের ‘প্রোভিশনাল’ ভোট দেওয়ার সুযোগ দেওয়া যেতে পারে।”

আইনি মারপ্যাঁচ: সময় কি হাতে আছে?

নির্বাচনী নিয়ম অনুযায়ী, মনোনয়ন জমার শেষ দিনেই (প্রথম দফার জন্য ৬ এপ্রিল এবং দ্বিতীয় দফার জন্য ৯ এপ্রিল) ভোটার তালিকা চূড়ান্ত হয়ে যায়। এরপর আর কোনো নাম যোগ বা বাদ দেওয়া অসম্ভব। যদি ট্রাইব্যুনালের কাজ তার আগে শেষ না হয়, তবে সুপ্রিম কোর্ট কি সময়সীমা বাড়াবে? নাকি কয়েক লক্ষ মানুষ ভোটাধিকার হারাবেন?

দু’টি পথ খোলা আছে এখন: ১. ২০২৫ সালের পুরনো তালিকা মেনে ভোট করা। ২. নাম বাদ পড়াদের ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে শেষ মুহূর্তে অন্তর্ভুক্তির সুযোগ দেওয়া।

আজ শীর্ষ আদালতের রায়ের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজ্যের কয়েক কোটি ভোটার এবং রাজনৈতিক দলগুলি। ভোট কি সময়েই হবে নাকি ইতিহাস বদলে পিছিয়ে যাবে বাংলার নির্বাচন? উত্তর মিলবে আজ বিকেলেই।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy