টলিউড পরিচালক ও চিত্রনাট্যকার উৎসব মুখোপাধ্যায় নিখোঁজ হওয়ার ১৯ দিন অতিক্রান্ত। গত ২ এপ্রিল আনন্দপুরের বাড়ি থেকে নিমতার একটি ব্যাঙ্কে যাওয়ার কথা বলে বেরিয়েছিলেন তিনি, কিন্তু তারপর আর ফেরেননি। আনন্দপুর থানা থেকে লালবাজার— তদন্ত চললেও এখনও মেলেনি কোনো সূত্র। এই পরিস্থিতিতে দিশেহারা স্ত্রী মৌপিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় সোশ্যাল মিডিয়ায় উগরে দিলেন তাঁর দীর্ঘদিনের জমানো যন্ত্রণা ও বিস্ফোরক সব তথ্য।
“হয়তো আমি আর বেঁচে থাকব না”
রবিবার ফেসবুকে এক দীর্ঘ পোস্টে মৌপিয়া জানান, তাঁর স্বাস্থ্য ও মানসিক অবস্থা তলানিতে ঠেকেছে। উৎসবের নিখোঁজ হওয়া যে নিছক কোনো সাধারণ ঘটনা নয়, বরং দীর্ঘদিনের এক পরিকল্পিত ‘সাইবার ক্রাইম’ ও প্রতিহিংসার ফল, সেই ইঙ্গিতই দিয়েছেন তিনি। মৌপিয়ার আশঙ্কা, তিনি নিজেও হয়তো দীর্ঘায়ু হবেন না, তাই সত্যটা জানিয়ে যেতে চান।
২০১৯ থেকে শুরু হওয়া সেই সাইবার আতঙ্ক
মৌপিয়া জানান, ২০১৯ সাল থেকেই উৎসবের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট কোনো অজ্ঞাত ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। উৎসব ছবি পোস্ট করলেই ফেক আইডি থেকে অশ্লীল মন্তব্যের বন্যা বয়ে যেত। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে:
ব্যক্তিগত আক্রমণ: উৎসব ও মৌপিয়ার বিয়ের ছবিতে চূড়ান্ত কুরুচিকর ও বিদ্বেষমূলক মন্তব্য করা হতো।
হ্যাকড প্রোফাইল: উৎসবের IMDB (মুভি ডেটাবেস) প্রোফাইল হ্যাক করে সেখানে তাঁর পরিচিতি বদলে নোংরা কথা লিখে রাখা হয়।
ফেক ওয়েবসাইট: এমনকি উৎসবের নামে আলাদা একটি ওয়েবসাইট বা ‘ডোমেইন’ তৈরি করে তাঁদের দুজনের নামে কুৎসা রটানো হতো।
নিজের ভেতর গুটিয়ে গিয়েছিলেন পরিচালক
এই লাগাতার সাইবার হামলার জেরে উৎসব মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন। বন্ধু-বান্ধব, এমনকি পরিবারের কাছ থেকেও নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে নিয়েছিলেন তিনি। ছবি তোলা হওয়ার ভয়ে কোনো পার্টি বা অনুষ্ঠানে যেতেন না। একের পর এক কাজের সুযোগও হাতছাড়া করছিলেন কেবল ‘নিরাপদ’ থাকার তাগিদে। মৌপিয়া পাশে দাঁড়িয়ে লড়াই করতে অনুপ্রেরণা দিলেও শত্রুপক্ষ দমে যায়নি।
শেষ লোকেশন উল্টোডাঙা, তারপর সব নিস্তব্ধ
গত ২ এপ্রিল বাড়ি থেকে বেরোনোর পর উৎসবের শেষ লোকেশন পাওয়া গিয়েছিল উল্টোডাঙা স্টেশনে। তারপর থেকে তাঁর ফোন সুইচড অফ। লালবাজারের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই সংবাদপত্রে নিখোঁজ বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। মৌপিয়ার দাবি, পুলিশকে সমস্ত সাইবার হামলার তথ্য দেওয়া হলেও তদন্তে কোনো অগ্রগতি দেখছেন না তিনি।
রহস্যময় কোনো অদৃশ্য শক্তি কি পরিচালককে সরিয়ে দিল? নাকি দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে নিজেই কোথাও চলে গেলেন উৎসব? টলিউড ও তাঁর পরিবার এখন কেবল অলৌকিক কোনো প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায়।





