ভোটের শেষলগ্নে কপিলমুনির আশ্রয়ে শাহ! সাগরে বিজেপির মেগা শক্তি প্রদর্শন, পাল্টে যাবে কি দক্ষিণ ২৪ পরগনার সমীকরণ?

লোকসভা নির্বাচনের শেষ দফার প্রচারের শুরুতেই বড় চমক দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সোমবার সকালে দক্ষিণ ২৪ পরগনার সাগর দ্বীপে পৌঁছে সরাসরি চলে যান ঐতিহ্যবাহী কপিলমুনির মন্দিরে। সেখানে পুজো দিয়ে এবং মহান্তের আশীর্বাদ নিয়ে নির্বাচনী প্রচারের শেষ দিনের শুভ সূচনা করলেন তিনি। রাজনৈতিক মহলের মতে, সাগরের এই তীর্থস্থান থেকে প্রচার শুরু করে হিন্দুত্বের আবেগ ও উন্নয়নের বার্তা— দুই-ই দিতে চাইলেন শাহ।

মন্দিরে পুজো ও শক্তি প্রদর্শন

এদিন অমিত শাহের আগমন ঘিরে সাগর ও সংলগ্ন এলাকায় ছিল সাজসাজ রব। কপিলমুনির মন্দিরে আরতি সেরে বেরিয়েই তিনি মেগা রোড-শো ও জনসভায় অংশ নেন। সাগরের এই জনসভায় মানুষের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। হাতে দলীয় পতাকা ও মোদী-শাহের কাট-আউট নিয়ে কর্মী-সমর্থকদের উন্মাদনা বুঝিয়ে দিচ্ছে যে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার এই উপকূলেও নিজেদের জমি শক্ত করতে মরিয়া বিজেপি।

শাহের নিশানায় দুর্নীতি ও অনুপ্রবেশ

সাগরের মঞ্চ থেকে তৃণমূল সরকারকে তীব্র আক্রমণ শানান অমিত শাহ। তাঁর ভাষণের মূল বিষয়গুলি ছিল:

  • গঙ্গাসাগর মেলার উন্নয়ন: তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকার গঙ্গাসাগর মেলাকে আন্তর্জাতিক স্তরে নিয়ে যেতে ব্যর্থ হয়েছে। বিজেপি ক্ষমতায় এলে এই মেলাকে কুম্ভ মেলার মতো গুরুত্ব দেওয়া হবে।

  • অনুপ্রবেশ সমস্যা: সুন্দরবনের সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ রুখতে বিএসএফ-কে আরও ক্ষমতা দেওয়া এবং কড়া নজরদারির প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

  • নদী বাঁধের স্থায়ী সমাধান: আমফান বা ইয়াসের মতো দুর্যোগ থেকে সুন্দরবনকে বাঁচাতে কেন্দ্রের সরাসরি হস্তক্ষেপে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের আশ্বাস দেন শাহ।

কেন সাগরকে বেছে নিলেন শাহ?

দক্ষিণ ২৪ পরগনার এই আসনগুলো বরাবরই তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। কিন্তু এবার মতুয়া ভোটব্যাঙ্ক এবং উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের অসন্তোষকে কাজে লাগিয়ে ফায়দা তুলতে চাইছে বিজেপি। শেষ দিনে শাহের এই ‘সাগর সফর’ কর্মীদের মনোবল আকাশছোঁয়া করেছে বলে দাবি গেরুয়া শিবিরের।

অমিত শাহের এই সাগর সফর ও কপিলমুনির আশীর্বাদ নির্বাচনে কতটা ম্যাজিক দেখায়, তা জানা যাবে আগামী ৪ জুন।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy