২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফা পার হয়েছে গত ২৩ এপ্রিল। আগামী ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার হাইভোল্টেজ ভোট। ঠিক তার ৪৮ ঘণ্টা আগে রাজ্যে ফের বড়সড় অভিযানে নামল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। সোমবার, ২৭ এপ্রিল সকাল থেকেই রাজ্যের তিন জেলায় একযোগে তল্লাশি চালিয়ে রেশন দুর্নীতি মামলায় (PDS Scam) এক প্রভাবশালী ব্যক্তিকে গ্রেফতার করার পাশাপাশি উদ্ধার করা হয়েছে নগদ ১৮ লক্ষ টাকা।
একযোগে ৩ জেলায় তল্লাশি
এদিন সকাল থেকে কলকাতার জোনাল অফিসের আধিকারিকরা কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে মূলত তিনটি এলাকায় হানা দেন:
কলকাতা (সল্টলেক ও পার্শ্ববর্তী এলাকা)
উত্তর ২৪ পরগনা (হাবড়া ও অশোকনগর)
বর্ধমান (শহর ও গ্রামীণ এলাকা)
ইডি সূত্রে খবর, রেশন বন্টন মামলার তদন্তে নেমে বেশ কিছু নতুন চালকল মালিক এবং মধ্যসত্ত্বভোগীর নাম উঠে আসে। সেই সূত্র ধরেই এই হানা। তল্লাশিতে কেবল নগদ টাকা নয়, মিলেছে একাধিক ডিজিটাল ডিভাইস এবং স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির চাঞ্চল্যকর নথি।
জালে প্রভাবশালী ‘কি-প্লেয়ার’
এদিনের অভিযানের সবচেয়ে বড় সাফল্য হলো এক প্রভাবশালী ব্যক্তির গ্রেফতারি। যদিও তদন্তের স্বার্থে এখনও তাঁর নাম জনসমক্ষে আনা হয়নি, তবে ইডি সূত্রে খবর— ধৃত ব্যক্তি রেশন বন্টন চেইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ নিয়ন্ত্রণ করতেন। তল্লাশির সময় তাঁর বাড়ি থেকেই থরে থরে সাজানো নগদ ১৮ লক্ষ টাকা উদ্ধার হয়। এই টাকা নির্বাচনী কাজে ব্যবহারের জন্য রাখা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন আধিকারিকরা।
ভোটের মুখে রাজনীতির পারদ তুঙ্গে
দ্বিতীয় দফার ভোটের ঠিক আগে কেন্দ্রীয় এজেন্সির এই সক্রিয়তা নিয়ে যথারীতি শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা।
তৃণমূলের দাবি: “নির্বাচনের আগে তৃণমূল কর্মীদের মনোবল ভাঙতে এবং ভোটারদের বিভ্রান্ত করতে বিজেপি এজেন্সিকে ব্যবহার করছে।”
বিজেপির পাল্টা তোপ: “দুর্নীতির শিকড় অনেক গভীরে। সাধারণ মানুষের অন্ন যারা চুরি করেছে, তাদের ভোটের আগেই উপযুক্ত শাস্তি হওয়া প্রয়োজন।”
তদন্ত আপডেট: গত ২৫ এপ্রিলও ইডি হাবড়া ও বর্ধমানের একাধিক রাইস মিল মালিকের বাড়িতে হানা দিয়েছিল। আজকের ১৮ লক্ষ টাকা উদ্ধার সেই দীর্ঘ লড়াইয়েরই অংশ বলে মনে করছেন গোয়েন্দারা।
নির্বাচনের মাঝে এমন বড়সড় দুর্নীতির হদিশ জনমানসে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।





