বিধানসভা ভোটের প্রচারে করা বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে আইনি জালে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআর খারিজের আবেদন নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে শুনানি চলাকালীন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের চরম ভর্ৎসনার মুখে পড়লেন তিনি। আদালতের পর্যবেক্ষণ, অভিষেকের মতো একজন উচ্চপদস্থ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের কাছ থেকে এই ধরনের “দায়িত্বজ্ঞানহীন” মন্তব্য কাম্য নয়।
এদিন শুনানিতে বিচারপতি সরাসরি বলেন, “৪ মে নির্বাচনের ফল যদি অন্যরকম হতো, তাহলে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারত।” এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য্যের ক্ষোভ ছিল স্পষ্ট। তৃণমূল সাংসদের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় পাল্টা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে আনলে বিচারপতি সাফ জানান, অন্যের মন্তব্যের দায় তাঁর নিজের মন্তব্যের পক্ষে যুক্তি হতে পারে না।
প্রসঙ্গত, গত ৫ মে বাগুইআটি থানায় রাজীব সরকার নামে এক ব্যক্তি অভিষেকের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেন। নির্বাচনী প্রচারে ঘৃণা ছড়ানো, দাঙ্গায় উস্কানি এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার অভিযোগ আনা হয়েছে সাংসদের বিরুদ্ধে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর ১৯২, ১৯৬, ৩৫১/২ এবং ৩৫৩ (১) (C) ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। এর পাশাপাশি জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ১২৩(২) ও ১২৫ ধারায় উস্কানিমূলক মন্তব্যের অভিযোগও রয়েছে।
যদিও আদালত অভিষেকের করা এফআইআর খারিজের আবেদন এদিন খারিজ করে দিয়েছে, তবে ৩১ জুলাই পর্যন্ত তাঁকে সাময়িক রক্ষাকবচ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, এই সময়ের মধ্যে পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে কোনো কড়া পদক্ষেপ করতে পারবে না। তবে রক্ষাকবচ পেলেও বিচারপতি একাধিক শর্ত আরোপ করেছেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, তদন্তের প্রয়োজনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সশরীরে হাজিরা দিতে হবে। তিনি ভার্চুয়ালি হাজিরা দেওয়ার যে আরজি জানিয়েছিলেন, তা আদালত নাকচ করে দিয়েছে। এছাড়া, তদন্তকারী আধিকারিক তলব করলে ৪৮ ঘণ্টা আগে নোটিশ দিতে হবে। সবথেকে বড় শর্ত হলো, আপাতত তিনি বিদেশ ভ্রমণ করতে পারবেন না।
শুনানির এক পর্যায়ে বিচারপতি তাৎপর্যপূর্ণভাবে বলেন, “মানুষ ভালো চেয়েই ২০১১ সালে পরিবর্তন এনেছিল।” এর জবাবে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, ২০২৬ সালেও মানুষ ভালো চিন্তাভাবনা করেই ভোট দিয়েছে। বিচারপতি তখন সোজাসুজি বলেন, “সেটা সময় বলবে।”
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই রক্ষাকবচ অভিষেককে সাময়িক স্বস্তি দিলেও, আদালতের এই কঠোর পর্যবেক্ষণ রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। একদিকে যেমন পুলিশি তদন্ত অব্যাহত থাকবে, অন্যদিকে আদালতের নজরদারিতে এই মামলার পরবর্তী শুনানি গুরুত্বপূর্ণ মোড় নিতে পারে। এখন দেখার বিষয়, আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে এই তদন্ত কোন দিকে এগোয়।





