ভোটের পর উচ্ছেদ অভিযান? হকারদের পাশে দাঁড়িয়ে বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ মমতার

আন্তর্জাতিক হকার দিবসকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এখন উত্তপ্ত। ক্ষমতায় আসার পর রাজ্য সরকারের গৃহীত ‘হকার উচ্ছেদ অভিযান’-এর বিরুদ্ধে গর্জে উঠলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, হকারদের রুটি-রুজির কথা না ভেবেই যথেচ্ছভাবে তাঁদের দোকানপাট ভেঙে দেওয়া হচ্ছে।

মমতার কড়া বার্তা: নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের হকারদের প্রতি সমবেদনা জানান এবং উচ্ছেদকারীদের উদ্দেশ্যে কড়া হুঁশিয়ারি দেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “যাঁরা হকারদের ওপর অকথ্য অত্যাচার চালাচ্ছেন, তাঁদের যোগ্য জবাব পেতে হবে।” তৃণমূল নেত্রী নিজেকে হকারদের চিরকালীন পাশে থাকা অভিভাবক হিসেবে তুলে ধরেছেন।

বিতর্কের মূলে কী? বর্তমান বিজেপি সরকারের উচ্ছেদ নীতির সমালোচনা করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, হকাররা রাজ্যের অর্থনীতির অন্যতম মেরুদণ্ড। কর্পোরেট বা সরকারি চাকরির বিকল্প হিসেবে লক্ষ লক্ষ মানুষ এই অনানুষ্ঠানিক ক্ষেত্রের ওপর নির্ভর করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। এই উচ্ছেদ অভিযান তাঁদের চোখের জলকে উপেক্ষা করে পথে বসানোর সামিল বলে তিনি দাবি করেন।

আইনি ও সামাজিক প্রেক্ষিত: ওয়াকিবহাল মহলের মতে, শহর পরিকল্পনার নামে হকার উচ্ছেদ কোনো স্থায়ী সমাধান হতে পারে না। বরং টাউন ভেন্ডিং কমিটির মাধ্যমে হকারদের আধুনিক বাজারের পরিকাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসাই শ্রেয়। ২০১৪ সালের ‘স্ট্রিট ভেন্ডর আইন’ অনুযায়ী, কোনো সমীক্ষা বা বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়াই হকারদের উচ্ছেদ করা মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী। সুপ্রিম কোর্টের একাধিক রায়েও হকারদের জীবিকার অধিকারকে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

রাজনৈতিক সংঘাতের ইঙ্গিত: আন্তর্জাতিক হকার দিবসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই আক্রমণাত্মক বার্তা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, হকার উচ্ছেদ নীতি নিয়ে আগামী দিনে আইনি এবং রাজপথের লড়াই আরও তীব্র হতে চলেছে। তৃণমূল নেত্রীর এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের ক্ষোভকে পুঁজি করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy