২০২৬-এর মেগা নির্বাচনে দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণের শুরু থেকেই উত্তপ্ত উত্তর কলকাতার শ্যামপুকুর কেন্দ্র। বুথ পরিদর্শনে গিয়ে দফায় দফায় বিক্ষোভ ও বাধার মুখে পড়লেন বিজেপি প্রার্থী পূর্ণিমা চক্রবর্তী। শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে বুথ জ্যাম এবং প্রার্থীকে হেনস্তা করার অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব।
ঠিক কী ঘটেছে? বুধবার সকালে শ্যামপুকুরের একটি বুথে ভোটারদের প্রভাবিত করার খবর পেয়ে সেখানে পৌঁছান পূর্ণিমা চক্রবর্তী। অভিযোগ, তিনি বুথে ঢুকতেই তাঁকে ঘিরে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান দেওয়া হয় এবং বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন একদল যুবক। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, নিরাপত্তা কর্মীদের রীতিমতো হিমশিম খেতে হয় প্রার্থীকে সরিয়ে নিয়ে যেতে। প্রার্থীর অভিযোগ, তাঁকে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করা হয়েছে এবং তাঁর গাড়ি আটকানোর চেষ্টাও হয়েছে।
বিজেপির অভিযোগ: ঘটনার পরপরই জেলা নির্বাচন আধিকারিক এবং নির্বাচন কমিশনের কাছে ইমেল মারফত অভিযোগ দায়ের করেছেন পূর্ণিমা চক্রবর্তী। তাঁর দাবি:
তৃণমূলের ক্যাডাররা বুথের সামনে জটলা করে ভোটারদের ভয় দেখাচ্ছে।
বিজেপি এজেন্টদের বসতে বাধা দেওয়া হচ্ছে।
প্রার্থী হিসেবে তাঁর গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করা হচ্ছে।
তৃণমূলের পাল্টা দাবি: পাল্টা সুর চড়িয়েছে ঘাসফুল শিবিরও। তৃণমূলের বিদায়ী বিধায়ক তথা বর্তমান প্রার্থী শশী পাঁজার শিবিরের দাবি, বিজেপি প্রার্থী বুথের ভেতর গিয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করছিলেন এবং বিনা প্ররোচনায় শান্ত পরিবেশকে অশান্ত করছেন। বিক্ষোভের সাথে দলের কোনো যোগ নেই, ওটা সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত ক্ষোভ—এমনটাই দাবি শাসক দলের।
কমিশনের ভূমিকা: কমিশন সূত্রে খবর, শ্যামপুকুরের ওই নির্দিষ্ট বুথটি থেকে রিপোর্ট তলব করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। আপাতত ওই এলাকায় অতিরিক্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে।
উত্তর কলকাতার এই গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে হাইপ্রোফাইল দুই নারী প্রার্থীর লড়াই এখন আক্ষরিক অর্থেই সম্মুখ সমরে পরিণত হয়েছে।





