২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনকে অবাধ, শান্তিপূর্ণ এবং স্বচ্ছ করতে এবার কোমর বেঁধে নামছে নির্বাচন কমিশন। বুথের অন্দরে কোনো ধরণের কারচুপি বা অশান্তি রুখতে ‘ওয়েব কাস্টিং’ (Webcasting) ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও বাধ্যতামূলক করার পথে হাঁটল কমিশন। এবার কেবল নামমাত্র ক্যামেরা নয়, প্রতিটি বুথের লাইভ ফিড সরাসরি দিল্লির সদর দফতর এবং রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
১. কেন এই কড়াকড়ি?
বিগত নির্বাচনগুলোতে বিভিন্ন বুথে সিসিটিভি ক্যামেরা থাকলেও, অনেক সময় সেগুলোর সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকা বা কারচুপি করার অভিযোগ উঠেছে। এবার সেই ফাঁকফোকর বন্ধ করতেই অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ওয়েব কাস্টিং-এর ওপর জোর দিচ্ছে কমিশন। এর ফলে প্রতিটি বুথের অন্দরে কী ঘটছে, তা রিয়েল টাইমে (Real-time) পর্যবেক্ষণ করা যাবে।
২. কমিশনের নতুন নির্দেশিকায় কী আছে?
১০০ শতাংশ কভারেজ: স্পর্শকাতর বুথ তো বটেই, এমনকি সাধারণ বুথগুলোতেও ওয়েব কাস্টিং বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।
সরাসরি নজরদারি: জেলাশাসক এবং পুলিশ সুপারের দফতরে একটি স্পেশাল কন্ট্রোল রুম থাকবে, যেখানে বড় স্ক্রিনে বুথের দৃশ্য দেখা যাবে।
কুইক রেসপন্স টিম: কোনো বুথে নিয়ম লঙ্ঘন বা ভিড় জমাতে দেখা গেলে সাথে সাথে সেখানে ‘কুইক রেসপন্স টিম’ (QRT) পাঠিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৩. নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়
নির্বাচন কমিশনের স্পষ্ট বার্তা, ওয়েব কাস্টিং-এর মাধ্যমে কেবল অশান্তি রুখতেই নয়, বরং পোলিং অফিসারদের কাজও তদারকি করা হবে। কোনো বুথে প্রিসাইডিং অফিসার যদি নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হন, তবে ভিডিও ফুটেজ দেখে তাঁর বিরুদ্ধেও কড়া পদক্ষেপ নেবে কমিশন।
৪. স্বচ্ছতার দাবি
বিরোধী দলগুলো দীর্ঘদিন ধরেই ১০০ শতাংশ বুথে ওয়েব কাস্টিং-এর দাবি জানিয়ে আসছিল। কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে তাই স্বাগত জানাচ্ছে রাজনৈতিক মহল। ভোটাররা যাতে ভয়হীনভাবে নিজের ভোট দিতে পারেন, সেই পরিবেশ তৈরি করাই এখন কমিশনের পাখির চোখ।





