ভোটের বাদ্যি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে বাজেনি, কিন্তু বাংলার রাজনীতির ময়দান ইতিমধ্যেই সরগরম। তবে এবারের লড়াই শুধু ময়দানে নয়, বরং হাতের মুঠোয় থাকা স্মার্টফোনের স্ক্রিনে। মিছিল, মিটিং আর দেওয়াল লিখনকে ছাপিয়ে এখন বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে ডিজিটাল প্রচার। নির্বাচন কমিশনের সূচি ঘোষণার আগেই তৃণমূল ও বিজেপি—উভয় পক্ষই কোটি কোটি টাকা ঢালছে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম এবং গুগলের বিজ্ঞাপনে। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, এই ডিজিটাল দাপটে আপাতত শাসকদল তৃণমূল কিছুটা এগিয়ে রয়েছে।
ইন্ডিয়া টুডে-র ওপেন সোর্স ইন্টেলিজেন্স (OSINT) টিমের এক চাঞ্চল্যকর তথ্য অনুযায়ী, গত ১৮ ডিসেম্বর থেকে ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত মাত্র এক মাসেই পশ্চিমবঙ্গে ডিজিটাল প্রচারে খরচ হয়েছে ৬.৩৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে তৃণমূল ও তাদের স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার আইপ্যাক খরচ করেছে প্রায় ২.৪ কোটি টাকা। শুধু অফিসিয়াল পেজই নয়, ‘আবার জিতবে বাংলা’, ‘মানুষের মমতা’ কিংবা ‘বলছে বাংলা’র মতো অজস্র ‘সারোগেট পেজ’ ব্যবহার করে জনমত গঠনের কাজ চলছে পুরোদমে। এই পেজগুলো থেকে একদিকে যেমন সরকারি প্রকল্পের জয়গান গাওয়া হচ্ছে, তেমনি বিরোধী পক্ষকে আক্রমণ করতেও ছাড়ছে না আইটি সেল।
পাল্টা লড়াই দিচ্ছে বিজেপিও। দলের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ এবং গুগল মিলিয়ে গত এক মাসে খরচ হয়েছে প্রায় ১.৩৫ কোটি টাকা। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, আগের নির্বাচনগুলোতে বিজেপি যেভাবে অসংখ্য ছদ্মনামী পেজ ব্যবহার করত, এবার সেই প্রবণতা কিছুটা কম। অন্যদিকে, রাজনৈতিক দলের পাশাপাশি সরকারি খরচেই চলছে কাজের খতিয়ান দেওয়ার পালা। রাজ্য তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর গত এক মাসে প্রায় ২.১ কোটি টাকা খরচ করেছে সোশ্যাল মিডিয়া বিজ্ঞাপনে। পিছিয়ে নেই কেন্দ্রীয় সরকারের সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ কমিউনিকেশনও। সব মিলিয়ে একুশের নির্বাচনের সেই ডিজিটাল ঢেউ এবারও স্পষ্ট। তবে এই বিপুল অঙ্কের বিজ্ঞাপন শেষমেশ কার ভোটব্যাঙ্ক ভারী করে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।