ভোটের ময়দানে এবার ভোটার স্লিপ (Voter Slip) নিয়ে বড়সড় চাল দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের আগে ভোটারদের উদ্দেশে তাঁর বিশেষ আর্জি— ভোট দেওয়ার পর ভোটার স্লিপটি যেন কেউ হারিয়ে না ফেলেন। বরং সেটিকে যত্ন করে জেরক্স (Xerox) করে রেখে দেওয়ার পরামর্শ দিলেন তিনি। তৃণমূল নেত্রীর এই বার্তায় রাজনৈতিক মহলে দানা বাঁধছে নতুন রহস্য।
মমতার পরামর্শের নেপথ্যে কী?
নির্বাচনী প্রচারের একটি সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি ভোটারদের উদ্দেশে বলেন:
“আপনাদের কাছে যে ভোটার স্লিপ আসবে, তা দিয়ে ভোট দেবেন। কিন্তু দেওয়ার পর ওটা ফেলে দেবেন না। ওটা জেরক্স করে নিজের কাছে রেখে দিন। মনে রাখবেন, ভবিষ্যতে এটা আপনার অনেক বড় কাজে লাগবে।”
কেন এই বাড়তি সতর্কতা?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটার স্লিপ আগলে রাখার এই পরামর্শ মূলত নাগরিকত্ব (CAA-NRC) এবং ভোটার তালিকায় নাম বাদ (SIR) যাওয়ার আশঙ্কার সঙ্গে যুক্ত। মুখ্যমন্ত্রী বারবার অভিযোগ করছেন যে, কেন্দ্রীয় সরকার সুকৌশলে অনেকের নাগরিকত্ব ও ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। এই পরিস্থিতিতে ভোটার স্লিপটি যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ওই নির্দিষ্ট সময়ে ভারতের বৈধ ভোটার ছিলেন, তার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ বা ‘ডকুমেন্ট’ হিসেবে কাজ করতে পারে— এমনটাই মনে করছেন তৃণমূল সুপ্রিমো।
সাঙ্কেতিক বার্তা?
ক্যামাক স্ট্রিটে ‘কম্বল মুড়ি দিয়ে ইভিএম লুট’ হওয়ার আশঙ্কার পর ভোটার স্লিপ নিয়ে এই মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিরোধীদের মতে, মুখ্যমন্ত্রী আসলে ভোটারদের মনে এক ধরণের ভয় বা ইনসিকিউরিটি (Insecurity) তৈরি করে ভোটব্যাঙ্ক সংহত করতে চাইছেন। অন্যদিকে, শাসক শিবিরের দাবি, এটি স্রেফ আইনি সুরক্ষার জন্য ভোটারদের সচেতন করা।
নির্বাচন কমিশনের নিয়ম কী?
উল্লেখ্য, ভোটার স্লিপ কেবল ভোট দেওয়ার জন্য একটি তথ্যমূলক নথি মাত্র। এটি কোনো নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র নয় বলে আগেই জানিয়েছে কমিশন। তবে ভোট দেওয়ার দিন বুথে ঢোকার ক্ষেত্রে এটি প্রধান সহায়ক।
ভোটের লাইনে দাঁড়ানোর আগেই কি তবে জেরক্স সেন্টারে ভিড় বাড়তে চলেছে? মমতার এই ‘জেরক্স দাওয়াই’ আগামী দিনে কী প্রভাব ফেলে, তা নিয়ে কৌতূহল তুঙ্গে।





