বোলপুরে আয়োজিত এক প্রশাসনিক সভা থেকে আজ বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি অভিযোগ করেন যে, তাকে না জানিয়েই রাজ্যের ১০০০ জন আধিকারিককে দিল্লিতে প্রশিক্ষণের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় জেলাশাসকদের (DM) দায়িত্বজ্ঞান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী এবং ভোটার তালিকা থেকে কারও নাম বাদ না দেওয়ার জন্য বুথ লেভেল অফিসারদের (BLO) প্রতি কড়া বার্তা দেন।
মুখ্যমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, “আমি জানতামই না ১ হাজার লোককে (কর্মকর্তা) নিয়ে গিয়েছে (দিল্লিতে প্রশিক্ষণের জন্য)।” এই বিষয়ে জেলাশাসকদের ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি বলেন, “দায়িত্ব ডিএম-দের, তারা খেয়াল রাখছেন না। দিল্লিতে ট্রেনিং-এর জন্য নিয়ে যাচ্ছে, জানানো উচিত ছিল।” তার এই মন্তব্যে প্রশাসনের অন্দরে সমন্বয়হীনতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া এবং সম্ভাব্য বাদ পড়ার আশঙ্কা নিয়েও মুখ্যমন্ত্রী তার উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বিএলওদের (BLO) উদ্দেশে তিনি কড়া ভাষায় নির্দেশ দেন, “বিএলও-দের কাছে আমার অনুরোধ, ভোটার লিস্ট থেকে যেন কারও নাম বাদ না যায়। মনে রাখবেন, চাকরি করেন রাজ্য সরকারের। কোনও মানুষকে অযথা হ্যারাস করবেন না।”
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই বার্তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, বিশেষ করে যখন রাজ্যে জাতীয় নাগরিক পঞ্জি (NRC) এবং ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর চলছে। মুখ্যমন্ত্রী বারবারই ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, কেন্দ্রীয় সরকার ভোটার তালিকা থেকে “বাঙালি” নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা করছে। তার আজকের মন্তব্য সেই আশঙ্কায় আরও ইন্ধন যোগ করল।
প্রশাসনিক এই সভায় মুখ্যমন্ত্রীর এমন বিস্ফোরক মন্তব্য স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলে শোরগোল ফেলে দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এটি জেলা প্রশাসন এবং নির্বাচন কমিশনের প্রতি মুখ্যমন্ত্রীর এক স্পষ্ট বার্তা। আগামী দিনে এই মন্তব্যের জেরে ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া এবং প্রশাসনিক স্তরে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।