ভোটার তালিকায় ‘ভুতূড়ে’ নাম অন্তর্ভুক্তির ঘটনায় রাজ্য মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর সরাসরি ইআরও (Electoral Registration Officer)-দের গাফিলতিকে দায়ী করেছে। নন্দকুমার এবং রাজারহাট-গোপালপুর বিধানসভা কেন্দ্রের ইআরও-দের বিরুদ্ধে তদন্ত রিপোর্ট নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠানো হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে কমিশন।
ডেটা এন্ট্রি অপারেটরদের ভূমিকা নিয়ে তদন্ত:
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে রাজ্য মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর একটি বড় পদক্ষেপ নিয়েছে। তারা জেলাশাসকদের কাছে দ্রুত রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছে, যেখানে গত পাঁচ বছর ধরে বিভিন্ন বিধানসভা কেন্দ্রে চুক্তির ভিত্তিতে কর্মরত ডেটা এন্ট্রি অপারেটরদের নিয়োগকারী এজেন্সির বিস্তারিত তথ্য জানাতে বলা হয়েছে। আগামী শুক্রবারের মধ্যেই এই রিপোর্ট জমা দিতে হবে। ময়না, রাজারহাট, নন্দকুমার এবং রাজারহাট-গোপালপুর— এই চারটি বিধানসভা কেন্দ্রের তদন্তে দেখা গেছে, ডেটা এন্ট্রি অপারেটরসহ কিছু অস্থায়ী কর্মী সরাসরি এই অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত।
ইআরও-দের লগইন আইডি অপব্যবহার:
তদন্তে আরও প্রমাণিত হয়েছে যে, ইআরও-রা তাদের নিজস্ব লগইন আইডি এবং পাসওয়ার্ড নিজেদের অফিসের ডেটা এন্ট্রি অপারেটরদের হাতে তুলে দিয়েছিলেন, যা সম্পূর্ণ বেআইনি। নির্বাচন কমিশনের পোর্টালে নাম তোলা বা বাদ দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো এভাবেই করা হয়েছে। যখন লগইন করার সময় ইআরও-র রেজিস্টার্ড মোবাইলে ওটিপি আসত, তখন তারা কোনো যাচাই না করেই সেই ওটিপি সহকর্মীদের দিয়ে দিতেন। এই অন্ধ নির্ভরতার সুযোগ নিয়েই কিছু অসাধু কর্মী ভুয়ো নাম ভোটার তালিকায় যুক্ত করেছে।
ভুয়ো নাম এবং নথি যাচাইয়ে অনিয়ম:
তদন্তে জানা গেছে, ভুয়ো নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য জমা দেওয়া নথিগুলো সঠিকভাবে পরীক্ষা করা হয়নি, এমনকি বিএলও (Booth Level Officer)-দের দিয়েও যাচাই করা হয়নি। রাজ্য মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর চারটি বিধানসভা কেন্দ্রে নতুন নামের নমুনা পরীক্ষা করে ২১২টি সন্দেহজনক নাম খুঁজে পেয়েছে। এই গুরুতর অনিয়মের ফলে ভোটার তালিকার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এখন দেখার, নির্বাচন কমিশন এই ঘটনায় জড়িত আধিকারিক এবং কর্মীদের বিরুদ্ধে কী ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়।





