বাংলার দ্বিতীয় দফার মহারণ শুরু হতে আর মাত্র ৪৮ ঘণ্টা বাকি। তার আগেই ভোটলুটেরাদের হাড়হিম করা বার্তা দিল ভারতের নির্বাচন কমিশন। দীর্ঘ দিন ধরেই বিরোধীদের সরব অভিযোগ ছিল যে, বুথে ভুয়ো ভোটারের দাপটে আসল ভোটাররা তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারেন না। এবার সেই দীর্ঘকালীন ‘অসুখ’ সারিয়ে তুলতে কড়া দাওয়াই নিয়ে এল কমিশন। সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ছাপ্পা ভোট দেওয়া বা ভুয়ো পরিচয় দিয়ে ভোট দেওয়ার চেষ্টা করলে সরাসরি এক বছরের জেল হতে পারে।
ভুয়ো ভোটার রুখতে ‘ত্র্যহস্পর্শ’ ফিল্টার:
এবার সরাসরি ভোটারের লাইনে গিয়ে দাঁড়ানো যাবে না। তার আগে প্রত্যেককে তিনটি কঠিন পরীক্ষা বা ‘ফিল্টার’ পার করতে হবে:
BLO-র নিখুঁত নজরদারি: বুথ লেভেল অফিসার (BLO) এবং তাঁর সহকারী ভোটারের সিরিয়াল নম্বর ও পার্ট নম্বর অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে মিলিয়ে দেখবেন।
ডবল ভেরিফিকেশন: ভোটারের পরিচয়পত্র (Voter ID বা অন্য বৈধ নথি) এক বার নয়, দু’বার যাচাই করা হবে।
আঙুলের কালি পরীক্ষা: ভোটারের আঙুলে আগে থেকেই কালি লেগে আছে কি না বা কোনও রাসায়নিক ব্যবহার করে কালি মোছার চেষ্টা হয়েছে কি না, তা গভীরভাবে পরীক্ষা করা হবে। এই সব ‘ছাঁকনি’ পার করার পরেই লাইনে দাঁড়ানোর অনুমতি মিলবে।
ডিজিটাল পাহারায় ১০০% বুথ:
কমিশন সূত্রে খবর, ২০২৬-এর এই নির্বাচনে রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভার প্রতিটিতেই ১০০ শতাংশ ওয়েবকাস্টিং বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। অর্থাৎ বুথের ভিতরের প্রতিটি মুহূর্তের সরাসরি সম্প্রচার হবে নির্বাচন কমিশনের কন্ট্রোল রুমে। কোনও সন্দেহজনক গতিবিধি চোখে পড়লেই সেখানে মোতায়েন কেন্দ্রীয় বাহিনী তৎক্ষণাৎ অভিযুক্তকে চিহ্নিত করবে। ছাপ্পা দেওয়ার প্রমাণ মিললে ‘ভারতীয় ন্যায় সংহিতা’ অনুযায়ী এক বছরের কারাদণ্ড বা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডই হতে পারে।
ভোটারদের জন্য একগুচ্ছ সুবিধা:
কড়া নজরদারির পাশাপাশি ভোটারদের স্বাচ্ছন্দ্যের দিকেও নজর দিয়েছে কমিশন। প্রবীণ ও বিশেষভাবে সক্ষমদের জন্য প্রতিটি বুথ নিচতলায় রাখা হয়েছে। এছাড়াও প্রতিটি বুথে পৃথক শৌচাগার ও পানীয় জলের সুব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রথম দফায় ১৫২টি আসনে মোটের ওপর শান্তিপূর্ণ ভোট হওয়ার পর, আগামী ২৯ তারিখের ১৪২টি আসনেও সেই একই ধারা বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর নির্বাচন কমিশন।





