“ভূমিপুত্রই হবেন মুখ্যমন্ত্রী! ভোটের আগের রাতে বড় রহস্য ফাঁস করলেন অমিত শাহ, জল্পনা তুঙ্গে”

বাংলার মসনদে কে বসবেন? বিজেপি কি বাইরে থেকে কাউকে চাপিয়ে দেবে? তৃণমূলের তোলা ‘বহিরাগত’ তকমার পাল্টা জবাব দিতে ভোটের ঠিক আগের রাতে মোক্ষম চাল চাললেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বুধবার প্রথম দফার ভোটের আগে শেষ মুহূর্তের প্রচারে এসে বিজেপির সম্ভাব্য মুখ্যমন্ত্রী মুখ নিয়ে একগুচ্ছ ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করলেন তিনি।

কী বললেন অমিত শাহ? এতদিন বিজেপি নেতৃত্ব বারবার বলতেন, ভোটের পরেই মুখ্যমন্ত্রী ঠিক করা হবে। কিন্তু আজ শাহ সরাসরি তিনটি শর্তের কথা উল্লেখ করে জল্পনা উসকে দিয়েছেন। তিনি বলেন:

“বাংলার মুখ্যমন্ত্রী যিনি হবেন, তিনি বাংলাতেই জন্মেছেন, বাংলা মিডিয়ামে পড়াশোনা করেছেন এবং বাংলা ভাষাতেই কথা বলেন। কোনো বহিরাগত নয়, মা-মাটি-মানুষের আসল সন্তানই নবান্নে বসবেন।”

শাহর এই মন্তব্যের রাজনৈতিক অর্থ: রাজনৈতিক মহলের মতে, শাহর এই বক্তব্যের পেছনে রয়েছে গভীর কৌশল:

  • তৃণমূলের ‘বহিরাগত’ তত্ত্বের মোকাবিলা: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল বারবার বিজেপিকে ‘হিন্দি বলয়ের দল’ বলে আক্রমণ করে। শাহ বুঝিয়ে দিলেন, মুখ্যমন্ত্রী হবে সাচ্চা বাঙালি।

  • সাংস্কৃতিক আবেগ: বাংলা মিডিয়ামে পড়াশোনার কথা বলে শাহ মধ্যবিত্ত ও গ্রামীণ বাঙালি আবেগকে ছুঁতে চেয়েছেন।

  • দলের ভেতরের জল্পনা: শাহর এই মন্তব্যের পর রাজ্য বিজেপির প্রথম সারির তিন-চারজন নেতার নাম নিয়ে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। শুভেন্দু অধিকারী, সুকান্ত মজুমদার নাকি দিলীপ ঘোষ— কার দিকে পাল্লা ভারী, তা নিয়ে শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।

তৃণমূলের পাল্টা আক্রমণ: অমিত শাহর এই মন্তব্যের পরেই সরব হয়েছে শাসক দল। তৃণমূলের দাবি, “ভোটের মুখে এসব ভাঁওতাবাজি। আসলে বিজেপি জানে বাংলায় তাদের পায়ের তলায় মাটি নেই, তাই এখন খড়কুটো আঁকড়ে ধরার চেষ্টা করছে।”

বিজেপি কর্মীদের মধ্যে উন্মাদনা: শাহর এই ইঙ্গিতে বিজেপি কর্মীদের মধ্যে নতুন করে প্রাণসঞ্চার হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মুখ নিয়ে ধোঁয়াশা কিছুটা কাটায় প্রচারের শেষ লগ্নে বাড়তি অক্সিজেন পেল গেরুয়া শিবির।

এক নজরে: ভোটের সকালে বুথে যাওয়ার আগে শাহর এই ‘মাস্টারস্ট্রোক’ বঙ্গ রাজনীতির সমীকরণ বদলে দেয় কি না, সেটাই এখন দেখার।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy