ভুল আঙুলে তিলক দিচ্ছেন? জেনে নিন কপালে তিলক লাগানোর সঠিক নিয়ম ও আঙুলের তাৎপর্য

ভারতীয় সনাতন ঐতিহ্যে কপালে তিলক ধারণ কেবল বিশ্বাসের প্রতীক নয়, এটি ইতিবাচক শক্তি ও শুভত্বের চিহ্ন। তবে শাস্ত্রীয় মতে, তিলক লাগানোর ক্ষেত্রে সঠিক আঙুল নির্বাচন করা অত্যন্ত জরুরি। জ্যোতিষশাস্ত্র ও ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, হাতের প্রতিটি আঙুল আলাদা গ্রহ ও শক্তির প্রতিনিধিত্ব করে।

ধর্মীয় বিধান মতে, তিলক লাগানোর জন্য ‘অনামিকা’ আঙুলকে সবচেয়ে শুভ বলে গণ্য করা হয়। অনামিকা আঙুলটি সূর্য ও ইতিবাচক শক্তির প্রতীক, যা মনকে শান্ত রাখে এবং আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করে। পূজা বা যেকোনো শুভ অনুষ্ঠানে পুরোহিতরা সাধারণত এই আঙুলটিই ব্যবহার করেন। বিপরীতে, ‘তর্জনী’ আঙুলকে নির্দেশ প্রদান বা তিরস্কারের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়, তাই ধর্মীয় কাজে এর ব্যবহার বর্জনীয়। এছাড়া ‘মধ্যমা’ আঙুল শনি গ্রহের সাথে সম্পর্কিত, যা সাধারণ পূজার পরিবর্তে তান্ত্রিক সাধনায় ব্যবহৃত হয়। ‘বৃদ্ধাঙ্গুলি’ শক্তি ও ইচ্ছাশক্তির প্রতীক হলেও, দেব-দেবীর পূজার ক্ষেত্রে অনামিকার ব্যবহারই শ্রেয়।

তিলক লাগানোর সঠিক পদ্ধতি হলো—স্নানের পর মন শান্ত রেখে আজ্ঞা চক্রে বা কপালের ঠিক মাঝখানে তিলক ধারণ করা। মনে রাখবেন, চন্দনের তিলক যেমন শান্তি ও নম্রতার প্রতীক, কুমকুমের তিলক তেমনই শক্তি ও মঙ্গলের বার্তাবাহক। সঠিক আঙুল নির্বাচনে শাস্ত্রীয় সতর্কতা অবলম্বন করলে আধ্যাত্মিক ও মানসিক প্রশান্তি লাভ করা সম্ভব।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy