ভিন্ন ধরনের পরিস্থিতি’র মুখে ইসরায়েল! পাল্টা হামলা শুরু করল ইরান, শতাধিক ড্রোন নিক্ষেপ, বড় যুদ্ধের আশঙ্কা?

মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি চরম উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। ইসরায়েল ইরানের বেশ কয়েকটি পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনায় রাতভর বিমান হামলা চালিয়েছে, যার ফলে দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান মোহাম্মদ বাঘেরি এবং রেভল্যুশনারি গার্ডের প্রধান জেনারেল হোসেইন সালামিসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। এই ভয়াবহ হামলার পর ইরানও পাল্টা হামলা শুরু করেছে, ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে শতাধিক ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর বরাত দিয়ে শুক্রবার (১৩ জুন) এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে।

ইরানের সামরিক কাঠামোতে ইসরায়েলের আঘাত: ক্ষমতার ভারসাম্যে পরিবর্তন?
ইসরায়েলের এই আকস্মিক ও ব্যাপক বিমান হামলা ইরানের সামরিক কাঠামোতে এক বড় ধাক্কা দিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান এবং রেভল্যুশনারি গার্ডের প্রধানের মতো উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নিহত হওয়ার খবর মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। তবে ইসরায়েল এই হামলা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি, যা পরিস্থিতিকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে।

পাল্টা ড্রোনের হামলা: ‘ভিন্ন ধরনের পরিস্থিতি’র মুখে ইসরায়েল
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র অ্যাফি ডেফরিন শুক্রবার জানান, ইরানের পক্ষ থেকে ১০০টিরও বেশি ড্রোন ইসরায়েলের দিকে নিক্ষেপ করা হয়েছে। তিনি বলেন, “সকল আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা চালু রয়েছে এবং এগুলো হুমকি প্রতিহত করতে কাজ করছে। এটি একেবারে ভিন্ন ধরনের পরিস্থিতি—আমরা কঠিন সময়ের মুখোমুখি হচ্ছি। তাই আমাদের ধৈর্য ও সাহসের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে।”

যদিও ড্রোনগুলো ঠিক কোথায় আঘাত হেনেছে বা প্রতিহত করা হয়েছে কিনা, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি, তবে পরিস্থিতি যে আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে, সে বিষয়ে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। এই ড্রোন হামলা ইসরায়েলের নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য এক নতুন এবং মারাত্মক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

আকাশসীমা বন্ধ জর্ডানে, মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে আতঙ্ক
এদিকে, ইরানে ইসরায়েলি হামলার পর জর্ডান সাময়িকভাবে তাদের আকাশসীমা বন্ধ ঘোষণা করেছে। জর্ডানের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (সিএআরসি)-এর প্রধান হাইথাম মিস্তো বলেন, “এটি একটি সতর্কতামূলক পদক্ষেপ, যা নেওয়া হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে সৃষ্ট সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে।” তিনি আরও জানান, এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল নিয়মনীতি ও নিরাপত্তা নির্দেশনা অনুযায়ী নেওয়া হয়েছে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে সময় অনুযায়ী এই নিষেধাজ্ঞা পর্যালোচনা করা হবে।

ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুসারে, শুক্রবার ভোরে ইসরায়েল ও ইরান উভয় দেশের আকাশ একপ্রকার ফাঁকা ছিল, কোনো বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ চলাচল করছিল না। এটি মধ্যপ্রাচ্যের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির এক গুরুতর অবনতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এই হামলা এবং পাল্টা হামলার ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যে এক নতুন সংঘাতের জন্ম দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মহল এই পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং সম্ভাব্য শান্তির পথ খুঁজছে। কিন্তু উত্তেজনা যে পর্যায়ে পৌঁছেছে, তাতে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা তীব্র হচ্ছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy