পাহাড় ভালোবাসেন, অথচ শৈলশহরের ভিড় আর হকারদের চিৎকার আপনার ভ্রমণ আনন্দ মাটি করে দেয়? তবে আপনার ব্যাগ গুছিয়ে সোজা চলে যেতে পারেন ওড়িশার সুন্দরগড় জেলার ‘সরফগড়’-এ। ভ্রমণপিপাসুদের কাছে এখনও খুব একটা পরিচিত নয় এই জায়গাটি, তাই এর নির্জনতা ও সৌন্দর্য যেন এক লুকোনো স্বর্গ। যারা এখানে একবার পা রেখেছেন, তারা একে ভালোবেসে ‘ছোটা কাশ্মীর’ বলেই ডাকেন।
সরফগড় কেন আপনার পরবর্তী গন্তব্য হওয়া উচিত?
১. অস্পৃশ্য প্রকৃতি: এখানে পাবেন ঘন জঙ্গল, টিলা পাহাড় আর পাহাড়ের গা বেয়ে নামা ঝর্ণার অপরূপ সৌন্দর্য। বর্ষায় এই ঝর্ণাগুলো প্রাণ পায়, আর শীতকালে কুয়াশাচ্ছন্ন পাহাড় আপনাকে সুইজারল্যান্ডের আবহ দেবে।
২. নিস্তব্ধতা: পর্যটকের ভিড় নেই, নেই কোনো কোলাহল। পাখির ডাক, ঝর্ণার কলতান আর জঙ্গলের নিস্তব্ধতাই এখানকার প্রধান ইউএসপি। কাপল বা সোল ট্রাভেলারদের জন্য এটি এক আদর্শ জায়গা।
৩. আদিবাসী সংস্কৃতি: সরফগড়ের আশেপাশে মুন্ডা ও ওরাওঁ আদিবাসীদের জীবনযাত্রা দেখার সুযোগ পাবেন। চাইলে কিনতে পারেন তাদের হাতে তৈরি ধনুক ও বাঁশের জিনিস। সুযোগ থাকলে তাদের ঐতিহ্যবাহী ‘করম’ উৎসবের সাক্ষী হতে পারেন।
কী কী দেখবেন?
সরফগড় হিল টপ: জিপে করে বা ট্রেকিং করে উপরে উঠলে পুরো সুন্দরগড় জেলার ৩৬০ ডিগ্রি ভিউ পাওয়া যায়। সানরাইজ ও সানসেট পয়েন্ট মিস করবেন না।
খান্দাধার জলপ্রপাত: এটি ওড়িশার উচ্চতম জলপ্রপাত (২৪৪ মিটার)। পাহাড় ফুঁড়ে জল পড়ার দৃশ্য আপনাকে মন্ত্রমুগ্ধ করবে।
সরফগড় ফরেস্ট: গাইড নিয়ে জঙ্গল সাফারি করুন। হাতি, হরিণ বা ময়ূর দেখার সুযোগ মিলতে পারে।
পীতমহল ড্যাম: নীল জল আর পাহাড়ের প্রেক্ষাপটে ছবি তোলার জন্য এটি সেরা পিকনিক স্পট।
ভ্রমণ পরিকল্পনা ও বাজেট:
সবচেয়ে কাছের বড় স্টেশন রাউরকেলা (৯০ কিমি)। রাউরকেলা থেকে গাড়ি বুক করে ২.৫ ঘণ্টায় পৌঁছানো যায়। ঝাড়সুগুদা বিমানবন্দর থেকেও আসা সম্ভব (১২০ কিমি)। সরফগড়ে থাকার জন্য কোনো হোটেল নেই, তাই সুন্দরগড় শহর বা রাউরকেলায় থাকতে হবে। জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি মাস ভ্রমণের সেরা সময়। কলকাতা থেকে দুই দিনের এই ভ্রমণে মাথাপিছু ৩,৫০০-৪,০০০ টাকা বাজেট রাখাই যথেষ্ট।
মনে রাখুন ৩টি প্রো-টিপস:
১. সরফগড়ে অনলাইন পেমেন্ট বা ইউপিআই (UPI) কাজ নাও করতে পারে, তাই পর্যাপ্ত নগদ টাকা রাখুন।
২. জঙ্গলে ঢোকার সময় অবশ্যই একজন স্থানীয় গাইড সাথে রাখুন।
৩. সাথে শুকনো খাবার, পর্যাপ্ত জল, ওডোমস এবং টর্চলাইট অবশ্যই রাখবেন, কারণ মেডিকেল দোকান বেশ দূরে।
সবশেষে, সরফগড় এখনও অনেকটা ভার্জিন বা অক্ষত। তাই সেখানে গিয়ে প্লাস্টিক বা আবর্জনা ফেলে এই সুন্দর প্রকৃতিকে নোংরা করবেন না। প্রকৃতির শান্ত রূপ উপভোগ করুন এবং যত্ন নিন।





