দেশের বর্তমান পরিস্থিতি যেখানে কর্মসংস্থানের অভাবে বহু মানুষকে ভিন রাজ্যে ছুটতে হচ্ছে, শিক্ষকরা রাজপথে আন্দোলন করছেন এবং শিক্ষা ব্যবস্থার বেহাল দশা, সেখানে তথাকথিত ভাষা আন্দোলন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিল্পী মেখলা দাশগুপ্ত। কোনো রাজনৈতিক দল বা নেতার নাম উল্লেখ না করেই তিনি মন্তব্য করেছেন, “যে দেশের লোকেদের কাজ পেতে ছুটতে হয় অন্য দেশে, শিক্ষকরা পথে, শিক্ষা ব্যবস্থা লাটে, আর নিজেদের শিক্ষিত প্রমাণ করার জন্য মাতৃভাষা বাদ দিয়ে ইংরেজির চর্চা হয় ঘরে ঘরে, সেখানে ভাষা আন্দোলন বিলাসিতামাত্র। এ তো নিজেদের বিরুদ্ধেই নিজের প্রতিবাদ!”
মেখলা দাশগুপ্তের এই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। বহু নেটনাগরিক তাঁর এই বক্তব্যের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। পারমিতা দলুই লিখেছেন, “যথার্থ বলেছেন ম্যাম”। মৃণাল কোলের মন্তব্য, “ঠিক বলেছেন দিদিভাই।” দেবায়ন ঘোষ তাঁর সঙ্গে সম্পূর্ণ সহমত পোষণ করেছেন। অলোক বিন্দু মেখলাকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেছেন, “এই রকম সত্যি কথা সবাই বলতে পারে না এই রাজ্যে।”
পার্থ চট্টোপাধ্যায়, শতরূপা ঘোষ, অভিজিৎ সড়েঙ্গি এবং প্রসেনজিৎ সেনগুপ্তের মতো বহু ব্যবহারকারী শিল্পীর এই মন্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন। দীপা গাঙ্গুলি রসিকতা করে লিখেছেন, “যা, মেখলা তুমি মহানায়ক পুরস্কার পাবে বলে মনে হয় না। তোমার পোস্টের সাথে সহমত জ্ঞাপন করলাম। অনেক বড় হও।” সৌরভ রাজীব রায় অবশ্য ‘দেশ’ এর পরিবর্তে ‘রাজ্য’ শব্দটি ব্যবহারের পরামর্শ দিয়ে বলেছেন, “ব্যাঙ্গালোর, হায়দরাবাদ, পুনে, মুম্বই- এর শিক্ষিত ছেলে, মেয়েদের এই রাজ্যের ছেলে, মেয়েদের মতো এতটা দূরবস্থা হয়নি।”
মেখলা দাশগুপ্ত নিজেই একটি মন্তব্যে অরিজিৎ সাহাকে লিখেছেন, “মাতৃভাষার অপমান প্রতিদিন অসংখ্য বাঙালি করে, অবহেলা করে। মাতৃভাষার চর্চার অবনমনের জন্য বাঙালি নিজে অনেক বেশী দায়ী।”
তবে, এই বিতর্কের মধ্যে ভিন্ন মতও উঠে এসেছে। শঙ্খ মহাপাত্র এই ধরনের আলোচনাকে “সব ভোটের রাজনীতি” বলে অভিহিত করেছেন। অরিন্দম সৎপতি বিদ্রুপের সুরে লিখেছেন, “এই জীবনে আবার ভারত ছাড়ো (বিজেপি ভারত ছাড়ো) আন্দোলন, ভাষা আন্দোলন দেখার সুযোগ পাচ্ছেন, এটা কি কম ব্যাপার?” আরেক শুভানুধ্যায়ী সরাসরি মন্তব্য করেছেন, “মাতৃভাষার ওপর নিখাদ ভালোবাসা অধিকাংশ বাঙালির নেই। এখন যেটাকে ‘ভাষা আন্দোলন’ বলে দাবি করা হচ্ছে সেটা পুরো রাজনৈতিক। ভাষার প্রতি প্রকৃত আবেগ থেকে নয়।”
সামগ্রিকভাবে, মেখলা দাশগুপ্তের এই মন্তব্য ভাষা আন্দোলন এবং মাতৃভাষার বর্তমান অবস্থা নিয়ে এক নতুন বিতর্ক উসকে দিয়েছে, যা সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের মধ্যে চিন্তাভাবনার খোরাক জোগাচ্ছে।