ভারতে ৩ লক্ষ কোটির বিনিয়োগ! ডিজিটাল বিপ্লবের পথে হাঁটছে মোদী সরকার,

ভারতের ডিজিটাল পরিকাঠামোয় আসতে চলেছে এক ঐতিহাসিক বিনিয়োগ। অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক ডেটা সেন্টার সংস্থা ‘এয়ারট্রাঙ্ক’ (AirTrunk) ভারতে প্রায় ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা প্রায় ৩ লক্ষ কোটি টাকা বিনিয়োগের ঘোষণা করেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বৈঠকের পর এই বিশাল বিনিয়োগের কথা জানিয়েছেন সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও রবিন খুদা।

কীভাবে বদলে যাবে ভারতের ডিজিটাল মানচিত্র? প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এই বিপুল বিনিয়োগের মাধ্যমে ভারতে ২০৩০ সালের মধ্যে ৫ গিগাওয়াট ডেটা সেন্টার ক্ষমতা তৈরি করা হবে। এটি ভারতের ডিজিটাল পরিকাঠামো খাতে অন্যতম বৃহত্তম বিনিয়োগ হতে চলেছে। এই প্রকল্পের ফলে:

  • ভারত বিশ্বজুড়ে ক্লাউড কম্পিউটিং এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI-এর ক্ষেত্রে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে।

  • স্থানীয় স্তরে সাপ্লাই চেইন মজবুত হবে।

  • নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক উদ্ভাবনভিত্তিক অর্থনীতিতে বড় গতি আসবে।

কে এই রবিন খুদা? এই বিশাল বিনিয়োগের নেপথ্যে থাকা রবিন খুদা একজন সফল বিলিয়নিয়ার উদ্যোক্তা। তাঁর জীবনের যাত্রা অত্যন্ত অনুপ্রেরণামূলক। আদতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রবিন ঢাকার শের-ই-বাংলা নগর গভর্নমেন্ট বয়েজ স্কুলে পড়াশোনা করেছেন। পরবর্তীকালে উচ্চশিক্ষার জন্য অস্ট্রেলিয়া পাড়ি জমান এবং ইংল্যান্ডের ম্যানচেস্টার বিজনেস স্কুল থেকে এমবিএ সম্পন্ন করেন। ২০০৭ সালে ফুজিতসু-র মতো সংস্থায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের পর, ২০১০-১১ সালে ডেটা সেন্টারের সম্ভাবনা বুঝে ২০১৫ সালে গড়ে তোলেন ‘এয়ারট্রাঙ্ক’।

এয়ারট্রাঙ্কের উত্থান: ২০১৫ সালে যাত্রা শুরু করা এয়ারট্রাঙ্ক আজ বিশ্বমানের ক্লাউড স্টোরেজ অবকাঠামো নির্মাণে অপ্রতিদ্বন্দ্বী। অস্ট্রেলিয়া, জাপান, হংকং, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশে তাদের ১১টি ডেটা সেন্টার সক্রিয় রয়েছে। ২০২৪ সালের শেষে ব্ল্যাকস্টোন (Blackstone) এবং সিপিবি ইনভেস্টমেন্টস-এর নেতৃত্বাধীন একটি কনসোর্টিয়াম সংস্থাটিকে অধিগ্রহণ করলেও, সিইও হিসেবে রবিন খোদাই এর হাল ধরে রয়েছেন। বর্তমানে সংস্থাটির ভ্যালুয়েশন ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের কাছাকাছি।

আগামী পদক্ষেপ: প্রধানমন্ত্রী মোদীর পাশাপাশি মহারাষ্ট্র ও অন্ধ্রপ্রদেশের মন্ত্রীদের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন রবিন খুদা। তিনি জানিয়েছেন, ভারত সরকারের বিদেশি বিনিয়োগকে স্বাগত জানানোর এই উদ্যোগ ও ভারতের দ্রুত বর্ধনশীল প্রযুক্তিগত পরিকাঠামোই তাঁদের এই বিশাল বিনিয়োগে আগ্রহী করে তুলেছে।

প্রযুক্তির এই বিপুল বিনিয়োগ দেশের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানকে কোন উচ্চতায় নিয়ে যায়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy