ভারতীয় বিমান পরিষেবা কি বড় কোনো অচলবস্থার দিকে এগোচ্ছে? সম্প্রতি কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রককে পাঠানো বিমান সংস্থাগুলির (Airlines) একটি যৌথ চিঠি ঘিরে এমনই জল্পনা তুঙ্গে উঠেছে। যে হারে সংকট ঘনীভূত হচ্ছে, তাতে আগামী দিনে দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল বড়সড় বাধার মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
চিঠিতে ঠিক কী জানিয়েছে বিমান সংস্থাগুলি? সূত্রের খবর, ইন্ডিগো (IndiGo), এয়ার ইন্ডিয়া (Air India) এবং স্পাইসজেট-এর মতো প্রথম সারির বিমান সংস্থাগুলি সরকারকে দেওয়া চিঠিতে মূলত তিনটি বিষয়ের ওপর জোর দিয়েছে:
এটিএফ (ATF) বা বিমান জ্বালানির আকাশছোঁয়া দাম: আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়ায় বিমান সংস্থাগুলোর লাভের গুড় এখন জ্বালানিতেই চলে যাচ্ছে। তারা অবিলম্বে জ্বালানির ওপর কর কমানোর দাবি জানিয়েছে।
বিমানের যন্ত্রাংশের আকাল: বিশ্বজুড়ে সাপ্লাই চেইন ব্যাহত হওয়ায় নতুন ইঞ্জিন ও যন্ত্রাংশ পাওয়া যাচ্ছে না। যার ফলে অনেক বিমান ইচ্ছা থাকলেও ওড়ানো যাচ্ছে না।
আর্থিক সংকট: ক্রমাগত লোকসানের ধাক্কা সামলাতে না পেরে সংস্থাগুলি জানিয়েছে, সরকার যদি ‘বেইল আউট’ বা বিশেষ প্যাকেজ না দেয়, তবে অপারেশন চালানো অসম্ভব হয়ে পড়বে।
যাত্রীদের ওপর প্রভাব: যদি এই সংকটের সমাধান দ্রুত না হয়, তবে কেবল উড়ান বাতিল নয়, বিমানের টিকিটের দামও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যেতে পারে। অনেক রুটে ইতিমধ্যেই বিমানের সংখ্যা কমিয়ে আনা হয়েছে।
সরকারের অবস্থান: বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রক জানিয়েছে, তারা চিঠিটি খতিয়ে দেখছে। জ্বালানির দাম নিয়ে অর্থ মন্ত্রকের সঙ্গে আলোচনার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তবে সংস্থাগুলি যেভাবে ‘অপারেশন বন্ধ’ করার ইঙ্গিত দিয়েছে, তাতে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন নিত্যযাত্রীরা।
মাঝ আকাশ থেকে হুটহাট বিমান কি তবে উধাও হয়ে যাবে? না কি মধ্যস্থতায় কাটবে জট? এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা দেশ।





