বিশ্ব অর্থনীতিতে ভারতের প্রভাব বাড়াতে আরও এক বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে মোদী সরকার। দীর্ঘ আলোচনার পর অবশেষে আগামীকাল, ২৭শে এপ্রিল ভারত ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যে স্বাক্ষরিত হতে চলেছে বহু প্রতীক্ষিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (Free Trade Agreement – FTA)। এই চুক্তির ফলে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের এই গুরুত্বপূর্ণ দেশটির সঙ্গে ভারতের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য এক লাফে কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অগ্রগতির নয়া দিশা
এই চুক্তির ফলে দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্কে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। ভারতের কৃষি পণ্য, বস্ত্র শিল্প এবং তথ্যপ্রযুক্তি (IT) সেক্টরের জন্য নিউজিল্যান্ডের বাজার আরও উন্মুক্ত হবে। অন্যদিকে, নিউজিল্যান্ড থেকে উন্নত মানের দুগ্ধজাত পণ্য এবং কৃষি যন্ত্রপাতি সহজ শর্তে ভারতে আসতে পারবে।
এই চুক্তির প্রধান লাভগুলি এক নজরে:
রপ্তানি বৃদ্ধি: ভারতীয় ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য, রত্ন-অলঙ্কার এবং ওষুধের ওপর শুল্ক হ্রাস পাওয়ায় নিউজিল্যান্ডে রপ্তানি বাড়বে।
কর্মসংস্থান: দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বাড়লে দুই দেশেই নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে, বিশেষ করে স্টার্টআপ ও সার্ভিস সেক্টরে।
সহজ বিনিয়োগ: কিউয়ি বিনিয়োগকারীরা ভারতের পরিকাঠামো এবং উৎপাদন ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করতে আরও উৎসাহিত হবেন।
“নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি কেবল একটি অর্থনৈতিক সমঝোতা নয়, এটি প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ভারতের কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করবে।” — বাণিজ্য মন্ত্রকের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক।
চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা
দীর্ঘদিন ধরে কৃষি ও দুগ্ধজাত পণ্যের শুল্ক নিয়ে দুই দেশের মধ্যে দর কষাকষি চলছিল। ভারতীয় দুগ্ধ চাষিদের স্বার্থ রক্ষা করেই কেন্দ্র এই চুক্তির পথে এগোচ্ছে বলে সূত্রের খবর। ২৭শে এপ্রিলের এই স্বাক্ষর অনুষ্ঠান কেবল বাণিজ্য নয়, বরং প্রযুক্তি বিনিময় এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবিলাতেও দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
ভারতের অগ্রগতির এই নতুন দ্বার কি পারবে দেশের অর্থনীতিতে জোয়ার আনতে? উত্তর মিলবে আগামী অর্থবর্ষের বাণিজ্যিক পরিসংখ্যানেই।





