আসামের শ্রীভূমি জেলার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ফের সংঘাতের আবহ সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি ভাঙা-হরিনগর সীমান্ত সেক্টরে একদল বাংলাদেশি নাগরিক এবং ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের (BSF) মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা ও মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা সামনে এসেছে। ঘটনার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর দুই দেশের সীমান্ত এলাকায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
🏞️ নতুন ভূমি নিয়ে সংঘাতের শুরু
সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার কেন্দ্র সুরমা নদীর তীরবর্তী এলাকা। বর্ষার পর নদীর জল কমে যাওয়ায় সেখানে নতুন করে কিছু ভূমি জেগে ওঠে।
অভিযোগ: বাংলাদেশি নাগরিকরা অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে জেগে ওঠা সেই জমিতে প্রবেশ করে সবজি চাষ শুরু করেন।
বিএসএফের পদক্ষেপ: বিএসএফের ১৭০ ব্যাটালিয়নের টহলদল বিষয়টি নজরে এনে সঙ্গে সঙ্গে চাষাবাদের বিরুদ্ধে আপত্তি জানায়। বিএসএফের দাবি, নতুন গঠিত এই ভূমি সম্পূর্ণভাবে ভারতের সীমার মধ্যে পড়ে।
বিএসএফ কর্তৃপক্ষ প্রতিবাদস্বরূপ বাঁশের বেড়া ও অস্থায়ী ছাউনি ভেঙে দিলে স্থানীয় বাংলাদেশি নাগরিকরা ক্ষুব্ধ হয়ে দল বেঁধে ঘটনাস্থলে এসে ভারতীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানায়।
🤬 স্লোগান ও অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ
সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, একাধিক ব্যক্তি বিএসএফ সদস্যদের উদ্দেশে স্লোগান ও কটূক্তি করছেন। বাংলাদেশের দিকের কিছু মানুষ স্লোগান তুলে অভিযোগ করেন, ‘ভারতীয় সেনা অনধিকার প্রবেশ করেছে’।
অন্যদিকে, ভারতের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে জানানো হয়েছে।
এক বিএসএফ আধিকারিক জানান:
“ঘটনাস্থল ভারতের সার্বভৌম সীমার মধ্যে অবস্থিত। সুরমা নদীর জল কমে নতুন জমি দেখা দেওয়ার পর থেকেই এ ধরনের বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে। বাংলাদেশের দিকের কিছু ব্যক্তি নদীর জল কমে বেরিয়ে আসা নতুন জমি দখল করার চেষ্টা করেছিল।”
🤝 ফ্ল্যাগ মিটিং ও শান্তি ফেরাতে উদ্যোগ
উত্তেজনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার পর সীমান্তে পরিস্থিতি শান্ত করতে বিএসএফ এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (BGB)-এর মধ্যে একটি জরুরি ফ্ল্যাগ মিটিং অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনায় দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী সীমান্তে শান্তি বজায় রাখতে একাধিক পদক্ষেপে সম্মত হয়েছে:
যৌথ টহল: ভবিষ্যতে এমন বিভ্রান্তি এড়াতে সীমান্ত এলাকায় যৌথ টহল জোরদার করা হবে।
যোগাযোগ: দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থা ও তথ্য বিনিময় আরও জোরদার করা হবে।
সীমান্ত লাগোয়া ভারতীয় গ্রামগুলির মানুষ জানিয়েছেন, বিএসএফ-বিজিবি বৈঠকের পর আপাতত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, তবে এ ধরনের ঘটনা তাদের জীবনে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করে। সীমান্ত নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, নদী গঠিত নতুন ভূমি নিয়ে দ্রুত কূটনৈতিক সমাধান প্রয়োজন।